জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন বিভাগ চালুর উদ্যোগের আগে একটি সমন্বিত একাডেমিক মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন এবং বিদ্যমান বিভাগগুলোর দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের দাবিতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও শিক্ষার্থী প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধিরা।
শনিবার (২৭ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের কাছে স্মারকলিপিটি জমা দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, আসন্ন সিনেট সভায় ছয়টি নতুন বিভাগ চালুর প্রস্তাব চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বর্তমান একাডেমিক ও অবকাঠামোগত সমস্যাগুলোর সমাধান না করে নতুন বিভাগ চালু করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান ৩৭টি বিভাগের অনেকগুলোই শিক্ষকস্বল্পতা, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ ও গবেষণাগারের অভাব এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া নতুন বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি হলে তাদের আবাসনের বিষয়েও সুস্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ কারণে পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের আগে নতুন বিভাগ চালুর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে বিদ্যমান বিভাগগুলোর সমস্যার সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে আরও কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—পুরোনো বিভাগগুলোর সংকট নিরসনের আগে নতুন বিভাগ না খোলা, গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো, গবেষণা কেন্দ্রগুলো সক্রিয় করা, থিসিস গবেষণার জন্য ন্যূনতম ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ নিশ্চিত করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ছাপাখানা স্থাপন, শ্রেণিকক্ষ ও ল্যাবের সংকট দূর করা, পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল সেন্টার চালু, শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা প্রবর্তন, সান্ধ্যকালীন ও উইকেন্ড কোর্স বন্ধ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন বাস্তবায়ন।
স্মারকলিপিতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ফাইজান আহমেদ অর্ক, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সজিব আহম্মেদ জেনিচ, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সোমা ডুমরী, জাহাঙ্গীরনগর বাঁচাও আন্দোলনের সানজিদা আফরিন এবং ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’-এর তাসনীম ইয়াসমীন তন্বীসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা স্বাক্ষর করেন।
এসআর