বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে যাওয়া লোডশেডিং শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়ের জন্যই বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিদিন প্রায় ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় ক্লাস, পরীক্ষা, গবেষণা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, দিনে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের স্বাভাবিক পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তারা পড়াশোনা ও বিশ্রাম—দুই ক্ষেত্রেই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরেও। রেজিস্ট্রার অফিস, অর্থ দপ্তর এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলোর কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দীর্ঘ সময় অফিসে বসে থাকলেও বিদ্যুতের অভাবে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করা যাচ্ছে না।
ফলে পরীক্ষার রুটিন প্রণয়ন, ফলাফল প্রস্তুত ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমেও বিলম্ব হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ল্যাবভিত্তিক কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রজেক্টরের মাধ্যমে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিতে বাড়তি কষ্ট করতে হচ্ছে।
অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, দিনের পর দিন দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে শিক্ষার্থীরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
ক্লাস শেষে হলে ফিরে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগও থাকে না, কারণ সেখানেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এতে পড়াশোনা ও ঘুম—দুটোই ব্যাহত হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি আবাসিক হলে প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষার্থী বসবাস করেন।
অনেক কক্ষে আটজন পর্যন্ত শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে থাকতে হয়।
এমন পরিস্থিতিতে গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে। বিভিন্ন হলের অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চান।
শেরে বাংলা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রেদোয়ান হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ক্যাম্পাসের বাইরে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বারবার বিদ্যুৎ চলে যায়।
দিনে ও রাতে মিলিয়ে প্রায় ছয় ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় লোডশেডিং হচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্রাম ও পড়াশোনার সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী (ইলেকট্রিক) মো. মামুন অর রশিদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এসআর