খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এক শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীর কাছে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
উপাচার্যের বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ তুলে ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী এবং দৈনিক কালের কণ্ঠের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মো. মিরাজুল ইসলামের কাছে এ ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাত স্বাক্ষরিত চিঠিতে তিন কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সংবাদের তথ্যসূত্র, অডিও-ভিডিও রেকর্ড এবং লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুন একটি জাতীয় দৈনিকে “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে খুবিতে বৃক্ষরোপণ” শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনের একটি অংশ নিয়ে প্রশাসনের আপত্তি রয়েছে।
প্রশাসনের দাবি, সেখানে উপাচার্যের বক্তব্যের মূল অর্থ সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি এবং তা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রকাশিত তথ্যের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে বিষয়টির ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণ চাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে মো. মিরাজুল ইসলাম বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই তিনি সংবাদটি প্রকাশ করেছেন।
তাঁর দাবি, কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি থাকলে তা সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত।
একজন শিক্ষার্থী পরিচয়কে সামনে রেখে সরাসরি তথ্যসূত্র বা রেকর্ডিং চাওয়া সাংবাদিকতার স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাত জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্র কর্তৃপক্ষের কাছেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সচিব মো. আব্দুস সবুর বলেন, কোনো সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রতিবেদকের পাশাপাশি সম্পাদনা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিরও ভূমিকা থাকে।
তাই কোনো প্রতিবেদনের বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইতে হলে সাধারণত সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের কাছেই তা চাওয়া হয়। সংবাদটি তথ্যভিত্তিক ও প্রমাণসমর্থিত হলে সেটিকে কেন্দ্র করে চাপ সৃষ্টি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে ঘটনার পর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি।
সংগঠনটির নেতারা এক বিবৃতিতে বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত নীতিমালা অনুযায়ী কোনো প্রতিবেদক তাঁর তথ্যসূত্র প্রকাশে বাধ্য নন। তারা মনে করেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের ওপর অযাচিত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিঠি প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।
এসআর