[email protected] শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বাংলা-ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় গুরুত্ব সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০২৬ ১:৪০ এএম

সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে প্রতিযোগিতায় সক্ষম মানবসম্পদ গড়ে তুলতে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এ পরিকল্পনার আওতায় বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ বাধ্যতামূলক করার কথা ভাবা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

তিনি জানান, দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে শিক্ষার্থীদের উপযোগী করে গড়ে তুলতে শিক্ষা কাঠামোতে ব্যাপক সংস্কার আনা হবে।

জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফরাসি কিংবা জার্মান ভাষার মধ্য থেকে অন্তত একটি ভাষা শেখার সুযোগ শিক্ষার্থীদের জন্য রাখা হবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

পর্যায়ক্রমে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার বিস্তার ঘটানো হবে।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিই হবে নতুন শিক্ষানীতির অন্যতম লক্ষ্য।

বিদেশি ভাষায় দক্ষ শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও বিশেষ সহায়তার কথা জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশে পড়াশোনার সুযোগ পেতে আগ্রহীদের সহজ শর্তে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত শিক্ষা ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিত করার কথাও জানিয়েছে সরকার।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন, মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ সম্প্রসারণ এবং বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা চালুর পরিকল্পনার কথাও বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেশব্যাপী পর্যায়ক্রমে মিড-ডে মিল কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের জন্য উন্নত স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সরকারের আশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের দক্ষতা ও আগ্রহ অনুযায়ী প্রযুক্তিবিদ, উদ্যোক্তা, গবেষক কিংবা দক্ষ পেশাজীবী হিসেবে দেশ-বিদেশে আরও বেশি সুযোগ তৈরি করতে সক্ষম হবে।

নারীদের স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে বলে বাজেট বক্তব্যে জানানো হয়েছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর