জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মো. শরিফ হোসেনকে নেত্রকোনার আটপাড়া এলাকায় শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভিডিওতে শরিফ হোসেনকে বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দিতে এবং কিছু বক্তব্য বলতে বাধ্য করা হয়েছে বলে দেখা যায়।
এছাড়া তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগও উঠেছে।
শরিফের ফুফু জাহেনা বেগম জানান, গত ১০ জুন চেমুনি বাজার এলাকায় অবস্থানকালে কয়েকজন যুবক শরিফকে জোরপূর্বক একটি মাঠে নিয়ে যায়।
সেখানে তাকে আটকে রেখে প্রথমে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে পরিবারের আর্থিক অবস্থার কথা জানালে দাবিকৃত অর্থ কমিয়ে দেওয়া হয়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় এক বিকাশ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে এবং নিজের অ্যাকাউন্টে থাকা আরও দুই হাজার টাকা যোগ করে মোট ১২ হাজার টাকা অভিযুক্তদের দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে শরিফের মোবাইল ফোনও নিয়ে রাখা হয়। পরে অর্থ নেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
জাহেনা বেগম আরও বলেন, ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে শরিফ ও তার ভগ্নিপতি থানায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
এদিকে, শরিফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনা সম্পর্কে নেত্রকোনার পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দিদারুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলটি কোন থানার আওতাভুক্ত, তা নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি রয়েছে।
পুলিশ সুপারের নির্দেশে ভুক্তভোগীকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। তিনি জানান, পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
তিনি জানান, নেত্রকোনার পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদেরও অভিযোগ দায়েরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ জমা পড়লে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে এবং শিক্ষার্থী শরিফ হোসেনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন ৫৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থীরা।
এসআর