বাংলাদেশের টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের শীর্ষ সংগঠন 'দ্যা ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস' (আইটিইটি)-
এর আসন্ন ১৫তম কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) দুইজন শিক্ষক। তারা দুটি আলাদা প্যানেল থেকে দুটি ভিন্ন পদে এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
আগামী ২৬ জুন (শুক্রবার) বুটেক্স ক্যাম্পাসে আইটিইটি'র এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা ঘিরে প্রকৌশলীদের মাঝে ব্যাপক প্রচারণা চলছে। এবারের নির্বাচনে 'ঐক্যবদ্ধ টেক্সটাইল প্রকৌশলী পরিষদ' এবং টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স ফোরাম সমর্থিত 'এনায়েত-সুমায়েল-নিক্সন পরিষদ' নামে দুটি প্যানেল অংশ নিচ্ছে, যার চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয় গত ২৩ মে।
নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বুটেক্সের শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদ সরকার। তিনি 'ঐক্যবদ্ধ টেক্সটাইল প্রকৌশলী পরিষদ' প্যানেল থেকে কোষাধ্যক্ষ পদে লড়ছেন।
নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কারণ ও লক্ষ্য সম্পর্কে ড. ইমদাদ সরকার জানান, আইটিইটিকে একটি সাধারণ অ্যাসোসিয়েশনের গণ্ডি থেকে বের করে কৃষিবিদদের সংগঠনের মতো শক্তিশালী, মর্যাদাপূর্ণ ও কার্যকর পেশাদার প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা প্রয়োজন। তিনি নির্বাচিত হলে সদস্যদের জন্য টেকসই কল্যাণ তহবিল গঠন, স্বাস্থ্যবীমা, বিশেষায়িত চিকিৎসা সুবিধা চালু এবং চাকরির বাজারে টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেবেন।
এছাড়া নতুন প্রযুক্তির সাথে প্রকৌশলীদের খাপ খাইয়ে নিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও স্বল্পমেয়াদি কোর্সের আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। দীর্ঘ ১৫ বছরের শিক্ষকতার সুবাদে গড়ে ওঠা পেশাগত সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে জয়ের ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদী।
অন্য প্রার্থী হলেন টেক্সটাইল মেশিনারি ডিজাইন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স বিভাগের প্রভাষক পৃথ্বিলা কামাল। তিনি 'এনায়েত-সুমায়েল-নিক্সন পরিষদ' থেকে মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে পৃথ্বিলা কামাল জানান, আইটিইটি'র কার্যক্রমে নারী প্রকৌশলী ও তরুণ সদস্যদের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্ব নিশ্চিত করাই তার মূল কাজ হবে। এর পাশাপাশি ক্যারিয়ার গাইডলাইন, মেন্টরশিপ, নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনে উৎসাহ দিতে বিভিন্ন কর্মশালার আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
নিজের প্যানেল সম্পর্কে তিনি বলেন, তাদের প্যানেলে শিল্পখাত, একাডেমিয়া এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের চমৎকার সমন্বয় রয়েছে, যা ভবিষ্যতে টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি-দাওয়া পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। দলগত কাজের মানসিকতা এবং জবাবদিহিতাকেই নিজেদের প্যানেলের সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মনে করেন তিনি।
এসআর