[email protected] বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে জাপানের বায়োটেকনোলজি পুরস্কার পেলেন কুবি শিক্ষিকা

বাবলু দেব, কুবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩ জুন ২০২৬ ১২:০৬ পিএম

অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ফার্মেসি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস জাপানের মর্যাদাপূর্ণ ‘এশিয়ান ইয়াং বায়োটেকনোলজিস্ট অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ অর্জন করেছেন।

এ অর্জনের মধ্য দিয়ে তিনি প্রথম বাংলাদেশি গবেষক হিসেবে এই আন্তর্জাতিক সম্মাননা লাভের কৃতিত্ব অর্জন করলেন।

মঙ্গলবার (২ জুন) তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জীবপ্রযুক্তি গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জাপানের সোসাইটি ফর বায়োটেকনোলজি (এসবিজে) তাকে এ পুরস্কারে ভূষিত করেছে।

ড. জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, তার গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল ন্যানোটেকনোলজিভিত্তিক উন্নত ওষুধ পরিবহন ব্যবস্থা (ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেম) উদ্ভাবন।

ওষুধের দ্রাব্যতা, স্থায়িত্ব এবং বিভিন্ন জৈব উপাদানকে নির্দিষ্ট স্থানে কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা দূর করার উদ্দেশ্যে তিনি কাজ করেছেন।

তিনি বলেন, গবেষণার অংশ হিসেবে ‘ন্যানোজেল ডিসপারশন’ প্রযুক্তি উন্নয়ন করা হয়েছে, যা বিভিন্ন জৈব অণুকে লক্ষ্যস্থানে পৌঁছে দিতে সহায়ক।

এই প্রযুক্তি চর্মরোগের চিকিৎসা, চোখে ওষুধ প্রয়োগ এবং ক্যান্সার চিকিৎসার মতো ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে জাপানে একটি পেটেন্টও অর্জিত হয়েছে।

এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিকে নিজের পেশাজীবনের অন্যতম বড় অর্জন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও গৌরবের বিষয়।

গবেষণা কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য তিনি তার জাপানি গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক, গবেষণাগারের সহকর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের গবেষণা ও পরিশ্রমের ফল হিসেবেই এ সম্মাননা অর্জিত হয়েছে।

বাংলাদেশের চিকিৎসা ও ওষুধ গবেষণায় ন্যানোজেল প্রযুক্তির সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশীয় ওষুধ শিল্পে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণা বাড়ানো গেলে নতুন ওষুধ, পেটেন্ট ও উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বিশেষ করে ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসায় এ ধরনের প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

উল্লেখ্য, ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত সোসাইটি ফর বায়োটেকনোলজি, জাপান (এসবিজে) দেশটির অন্যতম প্রাচীন ও স্বনামধন্য বৈজ্ঞানিক সংগঠন।

জীববিজ্ঞান ও বায়োটেকনোলজি গবেষণার বিকাশে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর