[email protected] রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শিক্ষাকে প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৭ জুন ২০২৬ ১:৫৭ পিএম

সংগৃহীত ছবি

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এ সময় তিনি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রোববার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিয়মের কারণে দেশের শিক্ষা খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

বর্তমান বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার জরুরি।

তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। তাই এই বৃহৎ শিক্ষার্থী গোষ্ঠীকে যুগোপযোগী জ্ঞান ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ করতে শিক্ষা কার্যক্রমে বাস্তবমুখী ও কর্মসংস্থানমুখী বিষয় যুক্ত করা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্ব চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল উদ্যোক্তা উন্নয়ন, নেতৃত্বগুণ, যোগাযোগ দক্ষতা এবং আর্থিক জ্ঞানের মতো বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পাশাপাশি জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানো প্রযুক্তি, থ্রিডি প্রিন্টিং ও ফাইভ-জি প্রযুক্তির মতো নতুন ক্ষেত্রেও প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।

তিনি বলেন, কেবল সনদ অর্জন নয়, কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনই হওয়া উচিত শিক্ষার মূল লক্ষ্য।

এ উদ্দেশ্যে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে শিল্প ও ব্যবসা খাতের যোগাযোগ বাড়ানো, ইন্টার্নশিপের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং একাডেমিক শিক্ষার সঙ্গে বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়ের ওপর জোর দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার পরও অনেক তরুণ প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাবে কর্মসংস্থান পেতে ব্যর্থ হন। এ সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন অঞ্চলে বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ধারণা বাস্তবায়নে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিশেষ আর্থিক সহায়তা বা ইনোভেশন গ্র্যান্ট দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এর ফলে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

শিক্ষকদের ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন শিক্ষক শুধু জ্ঞান বিতরণ করেন না, বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

তাই শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ, মানসিক সুস্থতা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং পরিবেশ সচেতনতার বিষয়েও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর