পবিত্র ঈদুল আজহা ঘিরে (বুটেক্স) ক্যাম্পাসে তৈরি হয়েছে ভিন্ন এক আবহ।
শিক্ষার্থীদের কাছে কোরবানির ঈদ কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়; বরং ত্যাগ, আত্মশুদ্ধি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার এক বিশেষ উপলক্ষ।
বিভিন্ন বিভাগ ও ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ঈদ নিয়ে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মানবতা, সম্প্রীতি ও সামাজিক দায়বদ্ধতার কথাই বেশি তুলে ধরেছেন।
অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সুমাইয়া ইসলাম বৃষ্টি বলেন, কোরবানির মূল শিক্ষা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য প্রিয় জিনিস ত্যাগ করার মানসিকতা তৈরি করা।
ছোটবেলা থেকেই তিনি পরিবারের কাছ থেকে কোরবানির মাংস অসচ্ছল মানুষের মাঝে বিতরণের শিক্ষা পেয়েছেন, যা তাকে মানুষের কষ্ট ও অনুভূতি বুঝতে সহায়তা করেছে।
তার মতে, ঈদের প্রকৃত আনন্দ আয়োজনের চেয়ে মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর মধ্যেই নিহিত।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. তাহফিমুল ইসলাম মিতুলের ভাষায়, কোরবানির ঈদ পরিবারকে একত্রিত করার উৎসব।
তিনি মনে করেন, এই ঈদ মানুষকে অহংকার, লোভ ও স্বার্থপরতা ত্যাগ করতে শেখায়। একই সঙ্গে কোরবানির মাংস সবার মাঝে ভাগ করে দেওয়ার মাধ্যমে সমাজে সমতা ও সহমর্মিতার বার্তা ছড়িয়ে পড়ে।
ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রামিসা হক চৌধুরী বলেন, ছোটবেলায় ঈদ মানে শুধু আনন্দ হলেও এখন এর সঙ্গে দায়িত্ববোধ ও অংশগ্রহণের বিষয়টিও যুক্ত হয়েছে।
তার মতে, কোরবানির শিক্ষা হলো নিজের ভেতরের নেতিবাচক প্রবৃত্তি ও অহংকার দূর করে মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করা।
টেক্সটাইল মেশিনারি ডিজাইন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ম্যানুয়েল অধিকারী স্পন্দন বলেন, ঈদ শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় আয়োজন নয়, এটি মানুষে মানুষে সম্পর্ক ও সম্প্রীতিরও উৎসব।
মুসলিম বন্ধুদের পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার অভিজ্ঞতা তাকে সবসময় মুগ্ধ করে। তার মতে, কোরবানির মাংস আত্মীয়স্বজন ও অসচ্ছল মানুষের মধ্যে বিতরণ সমাজে সাম্য ও মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আনজুম আবদুল্লাহ ত্বাহা বলেন, ঈদুল আজহা শুধু আনন্দের নয়, আত্মত্যাগ ও আত্মশুদ্ধিরও শিক্ষা দেয়।
তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও ঈদের অনুভূতি এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়। তার মতে, কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়; বরং নিজের অহংকার ও স্বার্থপরতা ত্যাগেরও প্রতীক।
অন্যদিকে ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. সাকিব পারভেজ শীতল বলেন, ঈদের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যায়।
তার মতে, কোরবানির ঈদ মানুষকে ভ্রাতৃত্ববোধ, সহমর্মিতা ও দায়িত্বশীলতার শিক্ষা দেয়।
শিক্ষার্থীদের অভিমত থেকে স্পষ্ট, কোরবানির ঈদের মূল বার্তা তাদের কাছে আত্মশুদ্ধি, মানবতা ও পারস্পরিক সম্প্রীতির চর্চা। ভিন্ন অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি থাকলেও সবার চিন্তায় একটি বিষয়ই গুরুত্ব পেয়েছে—ত্যাগের মধ্য দিয়েই গড়ে ওঠে প্রকৃত মানবিকতা।
এসআর