পবিত্র ঈদুল আজহা পরিবারের সঙ্গে উদ্যাপন করতে না পারলেও দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত সময় পার করছেন -এর নিরাপত্তাকর্মীরা।
বুধবার (২৮ মে) বিকেলে ক্যাম্পাসে দায়িত্বরত কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে কথা হলে তারা পরিবার থেকে দূরে ঈদ কাটানোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেটে কর্মরত মো. রনি হাওলাদার জানান, টানা কয়েকটি ঈদ পরিবার ছাড়া কাটাতে হচ্ছে তাকে।
তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যদের ছাড়া ঈদের দিনটা কষ্টের হলেও সহকর্মীদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে সেই শূন্যতা কিছুটা কমে যায়। স্ত্রী-সন্তান ও বাবা-মায়ের কথা মনে পড়লেও দায়িত্ববোধের কারণেই সবকিছু মেনে নিতে হয়।
চাকরি জীবনের একটি তিক্ত অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। রনি বলেন, ২০২১ সালে কুয়াকাটা আলীপুর এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন।
ওই ঘটনায় তিনি ঘাড়, গলা ও বুকে গুরুতর আহত হন এবং দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিতে হয়েছিল।
৪ নম্বর গেটে দায়িত্বরত মো. রাজু হাওলাদার বলেন, পরিবার ও ভাইবোনদের ছাড়া ঈদ কাটানো সহজ নয়। তবে ছুটির সময়ে ক্যাম্পাস ফাঁকা থাকায় নিরাপত্তার দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। তিনি জানান, সহকর্মীদের সঙ্গে একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া ও সময় কাটানোর মধ্য দিয়েই তারা ঈদের আনন্দ খুঁজে নেন।
অন্যদিকে ৩ নম্বর গেটের নিরাপত্তাকর্মী ইলিয়াস হোসেন বলেন, বাহিনীর চাকরিতে পরিবার ছাড়া ঈদ করা নতুন কিছু নয়। তারপরও সন্তানদের সঙ্গে ঈদ করতে না পারার কষ্ট থেকে যায়।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে থাকলে পরিবেশ প্রাণবন্ত থাকে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করলে ভালো লাগে এবং দায়িত্ব পালনেও উৎসাহ পাওয়া যায়।
উপাচার্য বাসভবনে দায়িত্ব পালনকারী মো. আব্দুল রহমানও একই অনুভূতির কথা জানান। তিনি বলেন, সন্তানদের ছাড়া ঈদ কাটাতে খারাপ লাগলেও সহকর্মীদের সঙ্গে মিলেমিশে ঈদের সময়টা কাটানোর চেষ্টা করেন তারা।
এসআর