[email protected] সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
১৬ ভাদ্র ১৪৩৩

হাজার কোটি টাকার ঋণে ১৫ বছর পর্যন্ত পুনঃতফসিলের সুযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩১ আগষ্ট ২০২৬ ৯:১৪ পিএম

সংগৃহীত ছবি

বড় অঙ্কের ঋণে থাকা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পগোষ্ঠীগুলোর জন্য ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনে নতুন সুবিধা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপের ঋণের পরিমাণ ১ হাজার কোটি টাকা বা তার বেশি হলে সর্বোচ্চ দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১৫ বছর পর্যন্ত ঋণ পুনঃতফসিল করা যাবে।


এ ছাড়া বিশেষ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে প্রচলিত মেয়াদের সঙ্গে অতিরিক্ত সর্বোচ্চ চার বছর সময় দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।


সোমবার (৩১ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ (বিআরপিডি) সার্কুলার লেটার নং-৩০ জারি করে এ নির্দেশনা দিয়েছে। দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো এই নির্দেশনা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।


বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এ সুবিধা নিতে আগ্রহী ঋণগ্রহীতাদের আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে আবেদন করতে হবে। নির্ধারিত ডাউনপেমেন্ট গ্রহণ এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আবেদনগুলো ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।


বড় ঋণগ্রহীতাদের জন্য বিশেষ সুবিধা
নতুন নীতিমালায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সুবিধা রাখা হয়েছে ১ হাজার কোটি টাকা বা তার বেশি ঋণ থাকা প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপের জন্য। ব্যাংক ও ঋণগ্রহীতার পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে এসব ঋণের বিশেষ পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠন করা যাবে।


এ ক্ষেত্রে ঋণ পরিশোধ শুরুর আগে সর্বোচ্চ দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া যাবে। এরপর সর্বোচ্চ ১৫ বছর মেয়াদে ঋণ পরিশোধের সুযোগ থাকবে।
অন্যদিকে, বিশেষ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে বিআরপিডি সার্কুলার নং-১৬/২০২২-এ নির্ধারিত সময়সীমার বাইরে আরও সর্বোচ্চ চার বছর বাড়তি সময় দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।


তবে ১ হাজার কোটি টাকার নিচে ঋণ থাকা কোনো প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপ এই অতিরিক্ত সুবিধা পাবে না। তাদের ক্ষেত্রে বিশেষ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের জন্য বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৭/২০২৫-এ নির্ধারিত মেয়াদই কার্যকর থাকবে।


আগের সুবিধাভোগীরাও আবেদন করতে পারবেন
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, শুধু নতুন আবেদনকারীরাই নয়, এর আগে বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৭/২০২৫ কিংবা নীতি সহায়তা–সংক্রান্ত বাছাই কমিটির মাধ্যমে সুবিধা পাওয়া ঋণগ্রহীতারাও নতুন নির্দেশনার আওতায় বাড়তি সুবিধা নিতে পারবেন।


তবে আগের গ্রেস পিরিয়ড নতুন করে শুরু হবে না। ইতোমধ্যে যে সময় গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে পার হয়েছে, তা নতুন মেয়াদের হিসাবের মধ্যেই ধরা হবে। প্রয়োজনে বিধিবদ্ধ সীমার মধ্যে অতিরিক্ত সময় দেওয়ার সুযোগ থাকবে।


ঋণের ধরন অনুযায়ী আলাদা ব্যবস্থা
নতুন আবেদনের ক্ষেত্রে ঋণের শ্রেণিমানও বিবেচনায় নেওয়া হবে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অশ্রেণিকৃত ঋণ বিশেষ পুনর্গঠন সুবিধার আওতায় নেওয়া যাবে। আর বিরূপমানে শ্রেণিকৃত ঋণ বিশেষ পুনঃতফসিলের আওতায় আসবে।


তবে কোনো ঋণ পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে নির্ধারিত শর্ত এবং প্রয়োজনীয় ডাউনপেমেন্ট নিশ্চিত করতে হবে।


বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এ সুবিধার আওতায় পাওয়া সব আবেদন ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে নিষ্পত্তি করতে হবে।
পুনরুদ্ধার নাকি নতুন করে ছাড়?


বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা সচল রাখা এবং তাদের আর্থিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসে আগের নীতি সহায়তার বাস্তবায়ন আরও কার্যকর করতেই নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ মেয়াদে ঋণ পরিশোধের সুযোগ পেলে সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর নগদ অর্থের চাপ কমতে পারে এবং ব্যবসা পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।


তবে বড় ঋণগ্রহীতাদের জন্য দীর্ঘ মেয়াদ, দুই বছর পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড এবং অতিরিক্ত পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়ায় ব্যাংকিং খাতে ঋণশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্নও উঠতে পারে। বিশেষ করে খেলাপি ঋণের চাপের মধ্যে এই সুবিধা প্রকৃত ঋণ আদায় বাড়াবে, নাকি বড় ঋণগ্রহীতাদের জন্য আরও একটি ছাড়ের পথ তৈরি করবে—তা নিয়ে নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।

এসআর

সম্পর্কিত খবর