[email protected] সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
১৬ ভাদ্র ১৪৩৩

নতুন ঋণের চেয়ে পুরোনো ঋণ পরিশোধে বেশি যাচ্ছে ২৭৩ মিলিয়ন ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০ আগষ্ট ২০২৬ ৬:৩৩ পিএম

সংগৃহীত ছবি

নতুন করে যে পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ দেশে আসছে, তার তুলনায় পুরোনো ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে বাংলাদেশকে ব্যয় করতে হচ্ছে অনেক বেশি অর্থ।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়া ঋণের চেয়ে ২৭৩ দশমিক ০৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বেশি পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ।


রোববার (৩০ আগস্ট) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।


ইআরডির হিসাব অনুযায়ী, জুলাইয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী বাংলাদেশকে ১৮০ দশমিক ১৮ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ ছাড় করেছে। বিপরীতে আগের নেওয়া ঋণের আসল ও সুদ বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৪৫৩ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, নতুন ঋণ হিসেবে যত অর্থ এসেছে, তার প্রায় আড়াই গুণ চলে গেছে পুরোনো ঋণ পরিশোধে।


কমেছে নতুন ঋণের অর্থছাড়
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাইয়ে বাংলাদেশ ২০৮ দশমিক ০৪ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ পেয়েছিল। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে ঋণ ছাড়ের পরিমাণ কমে হয়েছে ১৮০ দশমিক ১৮ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে অর্থছাড় কমেছে ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ।


নতুন ঋণের অর্থছাড়ের গতি কমে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার নিট প্রবাহেও চাপ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে নতুন অর্থ আসার ধীরগতির বিষয়টিও অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।
বেড়েছে ঋণ পরিশোধের চাপ


অন্যদিকে নতুন ঋণ কম এলেও আগের ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ কমেনি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাইয়ে বাংলাদেশ বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ বাবদ ৪৪৬ দশমিক ৬৮ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছিল। চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে সেই পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৪৫৩ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার।
অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জুলাই মাসে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ।


অর্থনীতিবিদদের মতে, বড় বড় প্রকল্পের নেওয়া ঋণের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ায় এখন এসব ঋণের আসল ও সুদের কিস্তি পরিশোধ শুরু হয়েছে। ফলে সামনের দিনগুলোতে ঋণ পরিশোধের চাপ আরও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে নতুন প্রকল্পে প্রত্যাশা অনুযায়ী বৈদেশিক অর্থছাড় না হলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামগ্রিক অর্থপ্রবাহের ওপর চাপ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর