[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আইসিটি ও টেলিকম খাতে কর ছাড়ের প্রস্তাব, সিম কর বাতিলের ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ জুন ২০২৬ ৮:৫৯ পিএম

সংগৃহীত ছবি

দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতের বিকাশ ত্বরান্বিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে একাধিক কর-সুবিধা ও প্রণোদনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে নতুন সিম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে আরোপিত ৩০০ টাকার নির্দিষ্ট কর সম্পূর্ণ তুলে দেওয়ার প্রস্তাব সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোগ হিসেবে সামনে এসেছে।

 

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মোবাইল সেবা আরও সহজলভ্য এবং সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে সিমের ওপর বিদ্যমান কর প্রত্যাহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সরকারের রাজস্ব আয় কিছুটা কমলেও ডিজিটাল সেবার বিস্তার আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

বাজেট প্রস্তাবে টেলিযোগাযোগ খাতের কর কাঠামো পুনর্বিবেচনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর মতে, বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিকম খাত দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হলেও তুলনামূলক উচ্চ করহার এর বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে। তাই ধাপে ধাপে করের বোঝা কমিয়ে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে বিটিআরসির লাইসেন্স ফি ও রাজস্ব ভাগাভাগির অর্থের ওপর আরোপিত ২০ শতাংশ উৎসে কর প্রত্যাহার। পাশাপাশি মোবাইল সেবা, যেমন—ভয়েস কল, এসএমএস ও ইন্টারনেট ডাটা ব্যবহারের ক্ষেত্রে উৎসে করের হার ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় মোবাইল ফোন উৎপাদন শিল্পকেও উৎসাহ দিতে উৎপাদনে ব্যবহৃত ২২ ধরনের কাঁচামালের ওপর উৎসে কর কমিয়ে ১ শতাংশ নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ শিল্পের জন্য বিদ্যমান ভ্যাট সুবিধার মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

 

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল অর্থনীতির বিস্তারের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশেও আইসিটি খাতকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে জাতীয় অর্থনীতিতে এ খাতের অবদান সীমিত হলেও আগামী পাঁচ বছরে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

 

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রস্তাবিত কর-সুবিধাগুলো বাস্তবায়িত হলে টেলিকম ও প্রযুক্তি খাতে নতুন বিনিয়োগ বাড়বে, সেবার খরচ কমতে পারে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের উদ্যোগ আরও শক্তিশালী হবে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর