[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বাজেটে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ জুন ২০২৬ ৬:৪৬ পিএম

সংগৃহীত ছবি

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে আবাসন খাতে বিনিয়োগ করা অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে আবাসন খাতে বিনিয়োগ করা অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

তবে আগের সরকারের মতো কম হারে বিশেষ কর সুবিধা না দিয়ে নিয়মিত করহারেই এই অর্থ প্রদর্শনের বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ সংক্রান্ত প্রস্তাব তুলে ধরেন।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের এটি প্রথম জাতীয় বাজেট।


বাজেট ঘোষণার আগে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদন করা হয়।

আগামী ৩০ জুন বাজেট পাস হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১০ শতাংশ কর পরিশোধের মাধ্যমে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ চালু করা হয়।

পরবর্তী অর্থবছরে সেই হার বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার এ সুবিধা বাতিল করে।


নতুন বাজেট প্রস্তাবে আয়কর আইনে একটি নতুন বিধান সংযোজনের কথা বলা হয়েছে। এর আওতায় জমি, ফ্ল্যাট বা ভবন ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রকৃত মূল্য গোপন করা হয়ে থাকলে করদাতা তা পরবর্তীতে আয়কর রিটার্নে ঘোষণা করতে পারবেন।

সেক্ষেত্রে প্রকৃত মূল্য ও দলিলে উল্লেখিত মূল্যের ব্যবধানের ওপর নির্ধারিত হারে কর দিতে হবে। ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের ক্ষেত্রে এ করহার ৩০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।


একইভাবে কোনো বিক্রেতা সম্পত্তি বিক্রির সময় প্রকৃত বিক্রয়মূল্য গোপন করে থাকলে তাকে প্রকৃত মূল্য ও দলিলমূল্যের পার্থক্যের ওপর ১৫ শতাংশ হারে মূলধনী কর দিতে হবে।


তবে এ সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে কিছু শর্তও রাখা হয়েছে। যদি আয়কর কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিয়ে থাকে, তাহলে নির্ধারিত করের পাশাপাশি অতিরিক্ত ২০ শতাংশ জরিমানা দিতে হবে।


উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনো ব্যক্তি তিন বছর আগে ঢাকায় ২ কোটি টাকায় একটি ফ্ল্যাট কিনলেও দলিলে ৫০ লাখ টাকা মূল্য দেখিয়েছেন।

বাকি দেড় কোটি টাকা অপ্রদর্শিত থাকলে তা বৈধ করতে তাকে ৩০ শতাংশ হারে ৪৫ লাখ টাকা কর দিতে হবে।

আর কর কর্তৃপক্ষ যদি আগেই প্রকৃত মূল্য শনাক্ত করে থাকে, তাহলে অতিরিক্ত ৯ লাখ টাকা জরিমানাও পরিশোধ করতে হবে।


অন্যদিকে বিক্রেতার ক্ষেত্রে একই দেড় কোটি টাকার ওপর ১৫ শতাংশ হারে ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূলধনী কর দিতে হবে। যদি কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই প্রকৃত মূল্য উদঘাটন করে, তাহলে অতিরিক্ত সাড়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা গুনতে হবে।


প্রস্তাবিত বিধান অনুযায়ী, নির্ধারিত কর পরিশোধ করে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করা হলে সেই অর্থের উৎস, বিনিয়োগ বা সম্পদ ক্রয়ের অর্থ কোথা থেকে এসেছে তা নিয়ে দেশের অন্য কোনো আইনের আওতায় প্রশ্ন তোলা বা ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না।
তবে কোনো ব্যক্তি যদি আগে থেকেই আদালতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হয়ে থাকেন কিংবা তার বিরুদ্ধে মামলা বিচারাধীন থাকে, তাহলে তিনি এই সুবিধা গ্রহণের সুযোগ পাবেন না।

এসআর

সম্পর্কিত খবর