বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে অর্থ পাঠাতে প্রবাসীদের উৎসাহিত করতে রেমিট্যান্সের ওপর বিদ্যমান ২ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা আগামী অর্থবছরেও বহাল রাখার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হওয়ায় এ খাতে সরকারের বিশেষ গুরুত্ব অব্যাহত থাকবে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকে সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে জানান, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বৈষম্যহীন চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শ্রমিকদের অধিকার ও সুরক্ষা জোরদারে শ্রম আইন সংশোধন করা হয়েছে।
নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা ও যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। নারীদের জন্য নিরাপদ আবাসন ও যাতায়াত সুবিধা সম্প্রসারণের পাশাপাশি নারী পরিচালিত ‘পিঙ্ক বাস’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণে নতুন উদ্যোগ হিসেবে সরকার একটি বিশেষ ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা বিভিন্ন কল্যাণমূলক সেবা, বীমা সুবিধা, ব্যাংকিং সেবা এবং জরুরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের লক্ষ্যে রাশিয়া, পর্তুগাল, রোমানিয়া, ব্রাজিল, গ্রিস, সার্বিয়া ও নর্থ মেসিডোনিয়ার মতো দেশের সঙ্গে নতুন শ্রমবাজার গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের শ্রমবাজার পুনরায় চালুর কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এক মাসে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা একক মাসের হিসাবে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে।
দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী নতুন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, কারিকুলাম উন্নয়ন, সার্টিফিকেশন ও মান নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার পরিকল্পনার কথাও বাজেট বক্তৃতায় তুলে ধরা হয়।
এসআর