ক্যান্সার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকজনিত পক্ষাঘাত, জন্মগত হৃদরোগ এবং থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত দরিদ্র ও অসচ্ছল রোগীদের জন্য সরকারি আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এসব রোগে আক্রান্ত রোগীদের এককালীন অনুদান ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাব তুলে ধরেন।
বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের ‘হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রম’-এর মাধ্যমে যোগ্য রোগীদের এ সহায়তা দেওয়া হবে। বছরে একবার এই আর্থিক অনুদান প্রদান করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যয়বহুল চিকিৎসার কারণে অনেক নিম্নআয়ের পরিবার প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়। ফলে রোগীর পাশাপাশি পুরো পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সহায়তার পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, ফলে সম্ভাব্য বাজেট ঘাটতি দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।
সরকার এই ঘাটতি পূরণে দেশীয় ও বৈদেশিক উভয় উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে বিদেশি ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী অর্থবছরের জন্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদে স্পিকারের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এটি দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট বক্তৃতা। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থবছরের বাজেট কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
এটি মূল প্রতিবেদনের তথ্যভিত্তিক পুনর্লিখিত (rewritten) সংস্করণ, যেখানে বাক্যগঠন, উপস্থাপনা ও অনুচ্ছেদ বিন্যাস পরিবর্তন করা হয়েছে।
এসআর