[email protected] বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বাংলাদেশে বেসরকারি বিনিয়োগে জোর দিচ্ছে এডিবি, ২০৩০ সালের মধ্যে অর্থায়ন বাড়ানোর লক্ষ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ জুন ২০২৬ ৬:৪০ পিএম

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও গতিশীল করতে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বেসরকারি খাতে তাদের বার্ষিক অর্থায়নের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।


বুধবার রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত একটি ব্যবসায়িক সেমিনারে এডিবি ও বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা তাদের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ও প্রকিউরমেন্ট কৌশল তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, উন্নয়ন অংশীদার এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


সেমিনারে জানানো হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে অবকাঠামো ও উন্নয়ন খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ ঘাটতি রয়েছে। এডিবির মতে, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারি বিনিয়োগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।


সরকার অনুমোদিত দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনায় আগামী দুই দশকে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর একটি বড় অংশ বেসরকারি খাত থেকে আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, পরিকল্পিত বিনিয়োগ বাস্তবায়ন হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হওয়ার পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।


বাংলাদেশে ইতোমধ্যে টেলিযোগাযোগ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সিমেন্ট ও ডিজিটাল লজিস্টিকসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করেছে এডিবি। ঋণ সহায়তার পাশাপাশি ইক্যুইটি বিনিয়োগ ও ঝুঁকি গ্যারান্টির মতো ব্যবস্থার মাধ্যমে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এতে বৃহৎ প্রকল্পে বিনিয়োগের ঝুঁকি কমবে এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।


এদিকে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও কার্যকর ও মানসম্মত পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে এডিবি। ২০২৬ সালের শুরু থেকে দরপত্র মূল্যায়নে শুধু সর্বনিম্ন মূল্য নয়, বরং কাজের মান, স্থায়িত্ব, উদ্ভাবনী সক্ষমতা এবং সামগ্রিক সুবিধাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। নতুন এই পদ্ধতির লক্ষ্য হলো উন্নয়ন প্রকল্পে মানসম্মত কাজ নিশ্চিত করা।


বিশ্বব্যাংকও তাদের ক্রয় ব্যবস্থায় বিভিন্ন পরিবর্তন এনেছে। আন্তর্জাতিক দরপত্রে গুণগত মানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বিষয়টি মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়েছে। বড় প্রকল্পগুলোতে দেশীয় শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।


নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকিউরমেন্ট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল পদ্ধতি, সরাসরি অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।


বর্তমানে বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বহু উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। আগামী অর্থবছরগুলোতে অবকাঠামো, বন্দর, পানি সরবরাহ ও নদী ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাতে নতুন প্রকল্পের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে জানানো হয়েছে।


সংশ্লিষ্টদের মতে, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর নতুন বিনিয়োগ ও প্রকিউরমেন্ট নীতি দেশের ব্যবসা পরিবেশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উন্নয়ন প্রকল্পের গুণগত মান বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর