ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করার দাবিতে চলমান ধর্মঘট সাত দিনের জন্য স্থগিত করেছেন বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকেরা।
এর আগে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) থেকে হাসপাতাল চত্বরে পার্কিংয়ের নির্দিষ্ট জায়গা বরাদ্দের দাবিতে ধর্মঘট শুরু করেন বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকেরা। এতে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
বুধবার সকালেও হাসপাতালের পুরোনো ও নতুন জরুরি বিভাগ এবং বহির্বিভাগের সামনে অ্যাম্বুলেন্সের অপেক্ষায় ছিলেন অনেক রোগীর স্বজন। তাঁদের কয়েকজনের অভিযোগ, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করেও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাননি।
অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় গুরুতর অসুস্থ রোগীদের অন্য হাসপাতালে নেওয়া এবং মৃত ব্যক্তিদের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া নিয়ে সংকটে পড়েন স্বজনেরা। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও কাভার্ড ভ্যানে মরদেহ নিয়ে যান।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাদল মাদবরের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা মেডিকেলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগীর সেবায় তাঁদের প্রায় ১২০ থেকে ১৩০টি অ্যাম্বুলেন্স নিয়োজিত থাকে। কিন্তু নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের জায়গা না থাকায় সড়কে গাড়ি রাখলে পুলিশি মামলা ও ডাম্পিংয়ের মুখে পড়তে হয়।
তিনি জানান, হাসপাতালের পুরোনো ভবনের পাশে একটি জায়গা তাঁরা নিজেদের অর্থে সংস্কার করেছিলেন। পরে সেখান থেকেও অ্যাম্বুলেন্স সরিয়ে দেওয়া হয়। পার্কিংয়ের জন্য সরকারকে নির্ধারিত রাজস্ব দিতে তাঁরা প্রস্তুত রয়েছেন। তাঁদের দাবি, হাসপাতালের কাছাকাছি অ্যাম্বুলেন্স রাখার জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থান বরাদ্দ করা হোক।
অন্যদিকে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মো. ফরহাদ হোসেন বলেছেন, সরকারি জায়গায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স রাখার নিয়ম নেই। তবে তাঁদের ব্যবসা পরিচালনায় বাধা দেওয়া হচ্ছে না; হাসপাতালের বাইরে গাড়ি রাখতে হবে। বিষয়টি তদারকির জন্য শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
হাসপাতালে রোগীদের পরিবহনের সুবিধা বাড়াতে আরও অ্যাম্বুলেন্স যুক্ত করার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান পরিচালক।
সাত দিনের জন্য ধর্মঘট স্থগিত হওয়ায় রোগী ও তাঁদের স্বজনদের ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
এসআর