রাজধানীতে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিরের ওপর তাঁর নিজ কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে।
অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিরের অভিযোগ, কয়েকজন ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে তাঁর কক্ষে প্রবেশ করে তাঁকে মারধর করেন। ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পরিচালকের কক্ষে কয়েকজনের সঙ্গে বৈঠক চলছিল। এ সময় আট থেকে নয়জন ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করেন। পরে তাঁদের কয়েকজন পরিচালককে চেয়ার থেকে টেনে তুলে মারধর করেন।
ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদও ঘটনাটি ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছেন। তবে এ বিষয়ে পরিচালকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় হারুন আল রশিদ দাবি করেন, কাজী আহমেদ জাকিরেরও কিছু দায় রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নিজের মুঠোফোনে থাকা একটি ছবি দেখিয়ে বর্তমান সরকারের সময়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরার সঙ্গে পরিচালকের কার্যালয়ে বৈঠক করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আইইডিসিআরের পরিচালকসহ স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। করোনাভাইরাস মহামারির সময় নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে তিনি পরিচিতি লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
ঘটনার সময় পরিচালকের কক্ষে উপস্থিত এক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের তিনি এর আগে আইইডিসিআরে দেখেননি।
পরিচালকের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন। তাঁর মতে, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে নিজ কার্যালয়ে এভাবে আক্রমণের ঘটনা গুরুতর। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, আইইডিসিআর দেশের সংক্রামক রোগের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, রোগ নিয়ে গবেষণা এবং জনস্বাস্থ্যসংক্রান্ত সতর্কতা জারির দায়িত্ব পালন করে। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রসহ (সিডিসি) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে।
বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিরকে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সম্প্রতি তিনি হামের টিকার কার্যকারিতা নিয়েও গবেষণা করেছেন।
এসআর