[email protected] রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
৭ ভাদ্র ১৪৩৩

অনৈতিক সম্পর্ক জেনে গাড়িচালককে অর্থ-চাকরির প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ আগষ্ট ২০২৬ ৯:৩০ পিএম

সংগৃহীত ছবি

জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত নেতা ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক তরুণীর কথিত সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর তাকে অর্থ ও চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন তার সাবেক গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী ওবায়দুর রহমান।

তার দাবি, গাজী নজরুল তাকে পাঁচ বছর সঙ্গে থাকার বিনিময়ে ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছিলেন।


শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্র্যাব) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ওবায়দুর। নিজের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার এবং হামলার প্রতিবাদে তিনি এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।


ওবায়দুর বলেন, গাজী নজরুলের সঙ্গে ওই তরুণীর সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর তিনি এর প্রতিবাদ করেন। এরপর তাকে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি ব্যক্তিগত সহকারী ও গাড়িচালক হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়। অর্থ গ্রহণ না করলেও তরুণীর নিরাপত্তা ও ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি গাড়িচালকের দায়িত্ব নেন বলে দাবি করেন।


তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৮ জুন প্রথমবার তিনি ওই তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুলের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারেন। পরদিন তরুণীর সঙ্গে কথা বললে সে বিষয়টি স্বীকার করে। পরে ২০ জুন তরুণীকে সঙ্গে নিয়ে এমপি হোস্টেলে গিয়ে গাজী নজরুলের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

সেখানে সংসদ সদস্য সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করেন বলেও দাবি করেন ওবায়দুর।


তিনি জানান, ৬ থেকে ১৩ জুলাই গাজী নজরুলের সঙ্গে থাকার সময় তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করেন। এ সময় ২২ জুন মেট্রোরেলের পল্লবী স্টেশনের একটি কফিশপ এবং ৯ জুলাই মিরপুর-১২ এলাকার একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গাজী নজরুল ও ওই তরুণীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখেছেন বলে দাবি করেন। এসব ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে বলেও জানান তিনি।


ওবায়দুর আরও দাবি করেন, ১৩ জুলাই মগবাজারের একটি রেস্টহাউসে গাজী নজরুল ও তরুণীর অবস্থানের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন তিনি। পরে ওই তরুণীকে নিয়ে ঢাকার বাইরে চলে যান। পরদিন ঢাকায় ফেরার পথে গাজী নজরুলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার পরামর্শে খিলক্ষেত এলাকায় তরুণীর বাবা ও আমিনুর নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করেন।


ওবায়দুরের অভিযোগ, ওই রাতে বাসায় ফেরার পর তরুণীর বাবা ও আমিনুর তার ওপর হামলা চালান এবং তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন তিনি।


এ ঘটনায় ২১ জুলাই পল্লবী থানায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করার কথা জানান ওবায়দুর। তার দাবি, পরে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয় এবং কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার হলেও আদালত থেকে তারা জামিন পান।


অন্যদিকে, ২ আগস্ট ওবায়দুরের বিরুদ্ধে নারী অপহরণ, পাচার ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে তার বোন এবং ওই তরুণীর মা বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন রয়েছে।


সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুলের সঙ্গে এক তরুণীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে গাজী নজরুল ওই তরুণীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। তরুণীটি ওবায়দুরের আত্মীয় বলেও জানা যায়।


গাজী নজরুল এর আগে অভিযোগ করেছিলেন, ১৩ জুলাই ওই তরুণীর বাবার অফিসে ওবায়দুর তাকে জিম্মি করে এক লাখ টাকা নিয়েছেন এবং ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়ার পেছনেও তার ভূমিকা রয়েছে।


তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওবায়দুর বলেন, তার বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তার মা ও পরিবারের সদস্যদেরও বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করতে হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে গত ২০ আগস্ট পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও জানান।
ওবায়দুর রহমান তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং হামলার ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

এসআর

সম্পর্কিত খবর