পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীকে দ্রুত পরিচ্ছন্ন রাখতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
দুই সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোরবানির পর সৃষ্ট বর্জ্যের বড় অংশ প্রথম দিনেই অপসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
উত্তর সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এবার কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। সংস্থাটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঈদের তিন দিনে মোট প্রায় ২১ হাজার টন বর্জ্য সরানো হবে। এর মধ্যে ঈদের দিনেই ১০ হাজার টনের বেশি বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
বর্জ্য সংরক্ষণে নাগরিকদের জন্য বিপুলসংখ্যক পরিবেশবান্ধব পলিব্যাগ বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি পশুর রক্ত ও ময়লা পরিষ্কারের পর জীবাণুনাশক ছিটানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বর্জ্য পরিবহনে শত শত ভারী যানবাহন প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রতিটি জোনে তদারকি টিম ও কন্ট্রোল রুম চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ডিএনসিসি আরও জানিয়েছে, অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করবে। পাশাপাশি কোরবানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইমাম ও কসাইদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা যায়।
অন্যদিকে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, ঈদের তিন দিনে প্রায় ৩৪ হাজার টন বর্জ্য অপসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ঈদের দিনেই প্রায় ১৬ হাজার টন বর্জ্য সরানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। অস্থায়ী পশুর হাটগুলোর বড় অংশের বর্জ্যও প্রথম দিনেই পরিষ্কার করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ডিএসসিসির তথ্য অনুযায়ী, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে কয়েক হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও বিপুলসংখ্যক যানবাহন নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া জীবাণুনাশক ছিটানো, লাইভ মনিটরিং ব্যবস্থা এবং ২৪ ঘণ্টার হটলাইনের মাধ্যমে নাগরিকদের অভিযোগ গ্রহণ ও তাৎক্ষণিক সমাধানের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
দুই সিটি করপোরেশনই জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে নগরবাসীর স্বস্তি নিশ্চিত করতে পরিচ্ছন্নতা, যানবাহন ব্যবস্থাপনা ও জনসেবামূলক কার্যক্রমে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এসআর