অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত অতি-প্রক্রিয়াজাত প্যাকেট খাবার দেশে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপসহ মারাত্মক অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, যা দেশের মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশের জন্য দায়ী।
মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর বিএমএ ভবনে গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই) এর সহযোগিতায় ‘প্রজ্ঞা’ আয়োজিত এক কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা জানান, প্যাকেটজাত খাবারের সামনের অংশে স্পষ্ট ও বাধ্যতামূলক সতর্কীকরণ চিহ্ন সম্বলিত ‘ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল)’ ব্যবস্থা চালু করা হলে এই অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
কর্মশালায় উপস্থাপিত গবেষণা অনুযায়ী, দেশের বেশিরভাগ প্যাকেটজাত খাবারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে এবং প্রায় ৯৭ শতাংশ মানুষ সপ্তাহে অন্তত একবার এসব খাবার খাচ্ছেন। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব জানান, ভোক্তা সচেতনতা বাড়াতে দেশে এই এফওপিএল ব্যবস্থা প্রচলনের কাজ চলমান রয়েছে।
ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ-এর আবু আহমেদ শামীম এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সামিনা ইসরাত উল্লেখ করেন, বিশ্বের ৪৪টি দেশে ইতিমধ্যে এই সাশ্রয়ী জনস্বাস্থ্য উদ্যোগটি চালু হয়েছে যা ভোক্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্যকর খাদ্য বেছে নিতে সহায়তা করে। জিএইচএআই-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুসসহ অন্যান্য আলোচকরাও দেশের ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় বাধ্যতামূলক সতর্কীকরণভিত্তিক এফওপিএল ব্যবস্থা দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।
এসআর