[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
২০ কার্তিক ১৪৩৩

নাসিরনগরে অটোচালক হত্যা: সীমান্ত এলাকা থেকে প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০২৬ ৭:৩০ পিএম

সংগৃহীত ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে অটোচালক আরজান মিয়া হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত তানভীর আহমেদ তুহিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে কসবা সীমান্তসংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

 

গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে পিবিআইয়ের একটি দল তুহিনকে নিয়ে নাসিরনগর সরকারি কলেজের পাশের কাশবনে যায়। ওই স্থান থেকেই গত ২১ সেপ্টেম্বর অটোচালক আরজানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র।

 

পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তুহিনকে আটক করা হয়। তিনি হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বাসিন্দা। হত্যাকাণ্ডের পর চট্টগ্রাম ও রাঙামাটিসহ বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। একপর্যায়ে ভারতে পালানোর পরিকল্পনা নিয়ে কসবা সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।

 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তুহিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পূর্বশত্রুতা ও অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনজন মিলে পরিকল্পনা করেন। গত ২০ সেপ্টেম্বর এক হাজার টাকা ভাড়ায় ফান্দাউক যাওয়ার কথা বলে আরজানকে ডেকে নেওয়া হয়। পরে নির্জন কাশবনে নিয়ে তাকে হত্যা করে হাত-পা বেঁধে ফেলে রাখা হয়। এরপর অটোরিকশা ও মুঠোফোন নিয়ে সেখান থেকে চলে যায় অভিযুক্তরা।

 

পিবিআই জানিয়েছে, এ ঘটনায় আরও দুজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

নিহত আরজান মিয়ার বাবা মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল এ ঘটনায় বাদী হয়ে নাসিরনগর থানায় হত্যা মামলা করেন। ছেলেকে হারিয়ে শোকাহত বাবা হত্যার সঙ্গে জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

 

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নাসিরনগর-মাধবপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে সরকারি ডিগ্রি কলেজসংলগ্ন ঝোপের মধ্যে এক যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় এক ব্যবসায়ী। পরে পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইমসিন দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

 

নিহত আরজান মিয়া (১৯) হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার চিকনপুর গ্রামের আউয়াল মিয়ার ছেলে। জীবিকার তাগিদে তিনি অটোরিকশা চালাতেন। পরবর্তী সময়ে বুড়িশ্বর ইউনিয়নের বেনীপাড়া এলাকা থেকে তার অটোরিকশাটি উদ্ধার করে পুলিশ।

 

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো নাসিরনগরে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এফ/ডি

সম্পর্কিত খবর