শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিতে চলমান আন্দোলনের পঞ্চম দিনেও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সাভার ও আশুলিয়ার তৈরি পোশাকশিল্প এলাকা।
সোমবার সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের নরসিংহপুর ও নিশ্চিন্তপুর এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের উত্তেজনা শুরু হয়।
একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয় সাভারের হেমায়েতপুর এলাকাতেও।
এ সময় শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জও করে। সংঘর্ষে শিল্প পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে প্রথমে অনন্ত গ্রুপের একটি কারখানার সামনে শ্রমিকেরা জড়ো হন। পরে হা-মীম গ্রুপের কারখানার সামনেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
বিভিন্ন দাবিতে সড়কে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে কয়েক দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়।
এদিকে সংঘর্ষের মধ্যে বেলা ১২টার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুরে নদী ফিলিং স্টেশনের সামনে একটি পোশাক কারখানার কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
এ সময় শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন সড়কে শ্রমিকদের অবস্থানের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হয়। মহাসড়কে তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট। পরিস্থিতি বিবেচনায় আশপাশের অধিকাংশ চালু কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
সাভার ও আশুলিয়ায় চলমান শ্রমিক অসন্তোষের কারণে গত কয়েক দিনে প্রায় ২৩০টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন সাভারের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু।
শ্রমিকদের অবরোধে সৃষ্ট যানজটের পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়ে আরিচা মহাসড়কে তিনি বলেন, পতিত সরকারের দোসররা সাভার ও আশুলিয়ার পোশাকশিল্পে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে।
বহিরাগতরা শ্রমিকদের কর্মসূচিতে যুক্ত হয়ে নাশকতার মাধ্যমে পরিস্থিতি জটিল করছে।
অন্যদিকে শিল্প পুলিশের অভিযোগ, বহিরাগতদের একটি অংশ শ্রমিকদের কারখানা থেকে বের হয়ে সড়কে অবস্থান নিতে উসকানি দিচ্ছে।
এতে কাজে যোগ দিতে আগ্রহী শ্রমিকেরাও কারখানা ছেড়ে বাইরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন বলে দাবি পুলিশের।
এ/এইচ/টি