[email protected] শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
১৬ কার্তিক ১৪৩৩

সূর্যের আলোতে পানি উত্তোলন, কৃষি বিপ্লবে নতুন সম্ভাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ৭:৩৭ পিএম

সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎচালিত পাতকুয়া বা ডাগওয়েল

 (Dugwell) স্থাপনের মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। সূর্যের আলোকে কাজে লাগিয়ে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের এই পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি কৃষিকাজে সেচ সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদন খরচ কমাতে বড় ভূমিকা রাখছে।

​প্রকল্পের পটভূমি ও বিস্তার

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)-এর উদ্যোগে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারের মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মীরসরাইয়ে মোট ৬টি ডাগওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে করেরহাট ইউনিয়নে ৪টি এবং অন্যান্য এলাকায় ২টি পাতকুয়া স্থাপন করা হয়। ২০২৩-২৪, ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও জমিতে সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

​সুবিধাসমূহ ও কার্যপ্রণালী

গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকলেও পর্যাপ্ত সূর্যালোক থাকলে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে পাম্প চালিয়ে নির্বিঘ্নে সেচ কাজ পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে। সোলার শক্তিতে চলার কারণে এতে ডিজেল বা বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না, ফলে লোডশেডিং কিংবা জ্বালানি খরচের কোনো ঝামেলা নেই। পরিবেশবান্ধব এই প্রযুক্তির ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও কার্বন নিঃসরণ কমানোরও সুযোগ তৈরি হয়েছে।

​কৃষকদের লাভ ও অনাবাদি জমির ব্যবহার

পাতকুয়া স্থাপনের ফলে পাহাড়ের পাদদেশের অনাবাদি ও শুষ্ক মৌসুমে পড়ে থাকা জমিগুলো এখন চাষাবাদের আওতায় এসেছে। যেমন— পূর্ব অলিনগর গ্রামের পাতকুয়াটির কারণে প্রায় ২০ একর অনাবাদি জমি এখন চাষাবাদের উপযোগী হয়েছে।

​স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী:

​নুর হোসেন মিয়া: শুষ্ক মৌসুমে সেচের অভাবে তাঁর প্রায় পাঁচ বিঘা জমি পতিত থাকত। পাতকুয়া চালুর পর থেকে বোরো, আমন ধান ও বীজতলা তৈরির পাশাপাশি বাঁধাকপি, ফুলকপি, শিম, লাউ, মরিচ, টমেটো, আলু ও বেগুনসহ নানা শাকসবজি চাষে পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছেন।

​আবুল কাশেম: সৌরশক্তিতে পাম্প চলার কারণে ইচ্ছামতো পানি তোলার সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে।

​মোক্তার হোসেন বা ইসরাফিল: ডিজেলের দাম বাড়ায় সেচ খরচ বৃদ্ধি পেলেও পাতকুয়ায় নামমাত্র খরচে (মাত্র ১০০ টাকায়) জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

​বিশেষজ্ঞ মতামত ও রক্ষণাবেক্ষণ

বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী তমাল দাশ জানান, মীরসরাইয়ের পাহাড়ি বালিমাটি ও পানির লেয়ার অত্যন্ত ভালো। 'সাব-সারফেস' প্রকৃতির এই ডাগওয়েলের পানি ব্যবহার পরিবেশের জন্য হুমকি নয়। পাতকুয়াগুলোর মাধ্যমে ধান, সবজি ও ফলমূল সফলভাবে আবাদ করা যায়। একটি ডাগওয়েল স্থাপনে সরকারের প্রায় ১৭ লাখ টাকা ব্যয় হয় এবং স্থানীয় কৃষকরা নিজেরাই কমিটি গঠন করে এর রক্ষণাবেক্ষণ করেন, যার জন্য সরকারকে বা বিএডিসিকে কোনো অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হয় না।

এসআর

সম্পর্কিত খবর