যশোরের গঙ্গানন্দপুর ও ধুলিয়ানি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ‘লতা বাহিনী’র বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদক কারবার, অস্ত্রের ভয় দেখানো এবং হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
সর্বশেষ গত সপ্তাহে আটুলিয়া ঢালিপাড়া এলাকায় রিনা নামে এক গৃহবধূর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ওই বাহিনীর বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় রিনার হাত-পা ভেঙে যায়। এ সময় বাধা দিতে গেলে আরও কয়েকজনকে মারধর করে আহত করা হয়। রিনার স্বামীর নাম আনিসুল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কথিত এই বাহিনীর নেতৃত্বে রয়েছেন লতা। তার বাড়ি আটুলিয়া অলি পাড়ায়।
এলাকায় মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, উঠতি বয়সী কিছু কিশোর ও যুবককে বিভিন্ন স্থানে সংগঠিত করে মাদক ব্যবসা পরিচালনা এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের কাজে ব্যবহার করা হয়।
বাহিনীর মাদক কারবার দেখভালের দায়িত্বে খবির নামে এক ব্যক্তি রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
তিনি নুনু মেম্বারের ছেলে। তাকে লতার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও উল্লেখ করেছেন অভিযোগকারীরা।
এ ছাড়া শ্রীচন্দ্রপুর পশ্চিমপাড়ার রাশেদের ছেলে সোহেল (৩৫), ধুলিয়ানি ইউনিয়নের রামভদ্রপুর এলাকার মস্ত মেম্বার, উজিরপুরের মিঠু, মুকুন্দপুরের রোকন ও বুলবুলির নামও এই চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে উঠে এসেছে।
স্থানীয়দের কয়েকজনের দাবি, চক্রটির কিছু সদস্যের কাছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। বিশেষ করে সোহেলের কাছে কালো রঙের একটি পিস্তল থাকার কথাও এলাকায় প্রচলিত রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো অস্ত্র উদ্ধার বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ অনুযায়ী, আটুলিয়া, শ্রীচন্দ্রপুর, গুলবাকপুর, ধুলিয়ানি ও রামভদ্রপুর এলাকায় চক্রটির তৎপরতা রয়েছে।
মারামারি, বাড়িঘর ভাঙচুর, চাঁদাবাজি ও মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না।
গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের কয়েকজন বিএনপি নেতা জানান, লতার বিরুদ্ধে মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে।
তাদের ভাষ্য, অতীতে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। বর্তমানে বিএনপির নাম ব্যবহার করে স্থানীয় এক নেতার ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তবে কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায় দল নেবে না বলেও তারা মন্তব্য করেন।
লতার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে এবং পুলিশ তাকে খুঁজছে বলেও স্থানীয়দের দাবি। তবে এসব মামলার বর্তমান অবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে চাঁদাবাজি, মাদক কারবার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক।
একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে নিরীহ গ্রামবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এসআর