চুয়াডাঙ্গার বাজারে চাল ও ডালের দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। একদিকে
মুগ, কলাই, মসুর ও ছোলার ডালের কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, অন্যদিকে চালের প্রতিটি ২৫ কেজির বস্তায় বেড়েছে ৫০ টাকা। একই সঙ্গে মাছ, মুরগি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দামের ওঠানামায় সংসারের খরচ মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।
চুয়াডাঙ্গা শহরের বড় বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত এক মাসের ব্যবধানে বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত কমলেও, মুরগির কয়েকটি জাতের দাম এবং চাল-ডালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। সবজির কিছু পণ্যের দাম কমলেও কয়েকটির দাম বাড়ায় এক পণ্যের স্বস্তি অন্য পণ্যের চাপে ম্লান হয়ে যাচ্ছে।
ডাল ও চালের দাম বৃদ্ধি:
বড় বাজারের মুদি ব্যবসায়ীরা জানান, মুগের ডাল ১৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৭০ টাকা, কলাইয়ের ডাল ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, ভালো মানের মসুর ডাল ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা এবং ছোলার ডাল ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মসলা ও শিশুদের দুধসহ অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দামও ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
চাল ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, বাসমতি চাল পাইকারিতে ৭৮ টাকা এবং খুচরায় ৮০ টাকা, ভালো মানের মিনিকেট ৬৬ টাকা এবং রড মিনিকেট ৫৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চালের প্রতি ২৫ কেজির বস্তায় ৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।
আয় বাড়েনি, বেড়েছে সংসার খরচ:
দিনমজুর ও রিকশাচালকরা জানান, চাল-ডালসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও তাদের আয় বাড়েনি। ফলে প্রতিদিনের আয় দিয়ে পরিবারের খাবার ও অন্যান্য খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
বাজারের অন্যান্য পণ্যের দাম:
সবজি: আলু ২৫ টাকা, পেঁয়াজ ৫০ টাকা, রসুন ৮০ থেকে ৯০ টাকা, আদা ২০০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি ৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০ টাকা, শিম ১২০ থেকে ১৩০ টাকা এবং বেগুন ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি।
মাংস ও ডিম: ব্রয়লার মুরগি ২০০ টাকা, সোনালি ৩২০ টাকা, লেয়ার ৩৭০ টাকা এবং গরুর মাংস ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের হালি ৪৪ টাকা (প্রতি খাঁচি ৩১০ টাকা)।
মাছ: বড় রুই ৫০০ টাকা, বড় কাতলা ৫০০ টাকা, পাঙাশ ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা এবং গলদা চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
নিত্যপণ্যের এই ঊর্ধ্বগতির কারণে সীমিত আয়ের মানুষ বাধ্য হয়ে তাদের প্রয়োজনীয় কেনাকাটার পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছেন।
এসআর