মাদকাসক্তি ও অনলাইন জুয়ার প্রতি আকর্ষণ তরুণদের ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক সম্পর্ক এবং সামাজিক নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
মাদকে আসক্ত হওয়ার পর অনেকেই ধীরে ধীরে পরিবার ও স্বজনদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। কারও কারও ক্ষেত্রে মাদক সেবনের পাশাপাশি অনলাইন জুয়ায় আসক্তি তৈরি হয়। এতে পড়াশোনা, চাকরি কিংবা স্বাভাবিক কর্মজীবন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক সংকটও দেখা দিতে পারে।
আসক্তির কারণে আয়-রোজগার ও সঞ্চয়ের অর্থ শেষ হয়ে গেলে কেউ কেউ পরিবারের সদস্যদের কাছে বারবার টাকা চাইতে থাকেন। দীর্ঘদিন এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ে এবং সম্পর্কের মধ্যে বিরোধ তৈরি হতে পারে। একপর্যায়ে স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ পাওয়া বন্ধ হয়ে গেলে কিছু ব্যক্তি অবৈধ উপায়ে অর্থ সংগ্রহের দিকে ঝুঁকতে পারেন। তবে মাদকাসক্ত প্রত্যেক ব্যক্তি অপরাধে জড়ান—এমন ধারণা সঠিক নয়।
মাদক ও জুয়ার আসক্তি প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত ভূমিকা জরুরি। পাশাপাশি তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, শিক্ষা ও কর্মমুখী কার্যক্রমে যুক্ত করার মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন।
আসক্তির লক্ষণ দেখা দিলে দোষারোপ বা সামাজিকভাবে হেয় না করে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা উচিত। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসা, জুয়াসংক্রান্ত অপরাধ এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
তরুণ সমাজকে মাদক ও জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করা এবং পরিবারে সহানুভূতিশীল পরিবেশ বজায় রাখা এখন সময়ের দাবি। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই তরুণদের সুস্থ জীবন, নিরাপদ পরিবার ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে এগিয়ে আসা সম্ভব
এসআর