[email protected] শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

লালমনিরহাটে সফল ‘স্কুল ফিডিং’ কার্যক্রম, সারাদেশে চালুর দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৮:৪০ এএম

সংগৃহীত ছবি

লালমনিরহাটে শিশু শিক্ষার্থীদের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহ

 বাড়াচ্ছে সরকার পরিচালিত ‘স্কুল ফিডিং’ কার্যক্রম। প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়া রোধ এবং কোমলমতি শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূর করতে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এটি চালু করা হয়েছে। এই সফল কার্যক্রমটি এখন সারাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছড়িয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

​কার্যক্রমের রূপরেখা ও খাদ্য তালিকা

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম ও কালীগঞ্জ উপজেলার ৩১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রম সফলভাবে চালু রয়েছে। এতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৪২,৬৭৯ জন শিক্ষার্থী টিফিন হিসেবে পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে (পাটগ্রামে ২২,৮২৯ জন এবং কালীগঞ্জে ১৯,৮৫০ জন)।

​দৈনিক টিফিন ব্যবস্থা: প্রতি ক্লাসে টিফিনের সময় উন্নত মানের বনরুটির সঙ্গে পর্যায়ক্রমে সিদ্ধ ডিম, দুধ ও কলা পরিবেশন করা হয়। বনরুটি প্রতিদিনের জন্য নির্দিষ্ট হলেও, তার সঙ্গে একদিন ২০০ মিলিলিটারের প্যাকেটজাত দুধ, একদিন কলা এবং সপ্তাহের বাকি ৩ দিন সিদ্ধ ডিম প্রদান করা হয়।

​সরবরাহ পদ্ধতি: ইএসডিও এবং আরডিএ নামের দুটি এনজিওর মাধ্যমে খাবার সরবরাহ তদারকি করা হচ্ছে। স্বয়ংক্রিয় মেশিনে তৈরি সরকারি লোগোযুক্ত বনরুটির পাশাপাশি বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকার নারীদের মাধ্যমে ডিম ও কলা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ফলে স্থানীয় বেকার নারীরাও মাসে ৪-৫ হাজার টাকা আয়ের কর্মসংস্থান পাচ্ছেন।

​ইতিবাচক প্রভাব

তিস্তা, ধরলা ও সানিয়াজান নদীবেষ্টিত লালমনিরহাটের ৩৬টি চরাঞ্চলে যেখানে আগে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার আশঙ্কাজনক ছিল, সেখানে এখন উপস্থিতির হার বেড়ে ৯৫-৯৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

​শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া: চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা জানায়, সকালে খেয়ে স্কুলে আসার পর বিকেল পর্যন্ত না খেয়ে থাকা তাদের জন্য কষ্টের ছিল। এখন এই উন্নত টিফিন পেয়ে তারা দীর্ঘ সময় ক্লাসে থাকার শক্তি পাচ্ছে এবং পড়ালেখায় মনোযোগ বাড়ছে।

​শিক্ষক ও অভিভাবকদের মত: স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবকদের মতে, আগে শিশুরা খিদে ও দুর্বলতার কারণে দুপুরের পর ক্লাসে অমনোযোগী হয়ে পড়ত। নতুন এই ব্যবস্থার ফলে স্কুলে উপস্থিতি যেমন অভূতপূর্বভাবে বেড়েছে, তেমনি তাদের স্বাস্থ্য ও পরীক্ষার ফলাফলেও দৃশ্যমান উন্নতি হচ্ছে।

​লালমনিরহাট জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আহসান হাবিব এবং স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা জানান, চরাঞ্চলসহ সর্বত্র এই পাইলট প্রকল্প ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং সারা দেশের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে এটি জাতীয়ভাবে সম্প্রসারণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন।

এসআর

সম্পর্কিত খবর