[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
২২ আশ্বিন ১৪৩৩

বিরামপুরে সড়কের জায়গা দখল করে প্রাচীর, ঝুঁকিতে স্কুলশিক্ষার্থীরা

যশোর জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৭ অক্টোবর ২০২৬ ৯:০০ পিএম

সংগৃহীত ছবি

যশোর শহরতলির বিরামপুর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সড়কের জায়গা দখল করে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

সড়কের দুই পাশের সরকারি জায়গা দখল হয়ে যাওয়ায় প্রধান সড়ক থেকে বিরামপুর গ্রামের ভাটাপাড়া পর্যন্ত সলিং রাস্তাটি বিভিন্ন স্থানে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে যানবাহন চলাচলে বিঘ্নের পাশাপাশি প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের সংযোগস্থলের দুই পাশে প্রাচীর নির্মাণের কারণে মূল সড়ক থেকে ভাটাপাড়া সড়কে প্রবেশকারী যানবাহন এবং বিপরীত দিক থেকে মূল সড়কে ওঠা যানবাহন দূর থেকে দেখা যায় না। ফলে ওই স্থানে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। স্কুল ছুটির সময় শিক্ষার্থীদের ভিড় থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধান সড়ক থেকে ভাটাপাড়া পর্যন্ত সলিং সড়কটির সরকারি হিসাবে প্রস্থ প্রায় ১৬ ফুট। তবে স্থানীয়দের দাবি, দুই পাশের জায়গা দখল করে স্থাপনা ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করায় কোথাও কোথাও সড়কের প্রস্থ ৬ থেকে ৭ ফুট পর্যন্ত কমে গেছে। ফলে বড় যানবাহন ওই সড়কে প্রবেশ করতে পারে না। ভ্যান ও ইজিবাইকও কষ্ট করে চলাচল করে।

 

ভাটাপাড়া এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি জায়গা দখলের কারণে সড়কটি দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রাস্তার পাশে ড্রেন নির্মাণের জায়গাও থাকছে না। তাদের দাবি, দ্রুত দখল হওয়া সরকারি জায়গা উদ্ধার করে সড়কটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।

 

এলাকার বাসিন্দা ও নিউটাউন বাদশা-ফয়সাল হাইস্কুলের গণিত শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, সড়কের দুই পাশ দখল হয়ে যাওয়ায় চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বড় গাড়ি ঢুকতে পারে না, ভ্যান ও ইজিবাইক কোনোভাবে চলাচল করে। সংযোগস্থলের পাশে নির্মিত প্রাচীরের কারণে সড়কের অপর দিক থেকে আসা যানবাহন দেখা যায় না। বিশেষ করে স্কুল ছুটির পর শিশুদের নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।

 

বিরামপুর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারহাজ মাহবুব বলে, স্কুল ছুটির সময় রাস্তায় অনেক মানুষের ভিড় থাকে। মূল সড়ক থেকে ছোট যানবাহন প্রবেশ করলেও আগে থেকে তা বোঝা যায় না। এ কারণে রাস্তা পার হওয়ার সময় ভয় লাগে। সড়কটি দখলমুক্ত করা হলে শিক্ষার্থীদের চলাচল নিরাপদ হবে।

 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাহিমা খাতুন বলেন, সড়কের দুই পাশে জায়গা দখল হওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। যেকোনো সময় কোনো শিক্ষার্থী দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সরকারি সড়কটি দখলমুক্ত করা জরুরি।

 

সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, সড়কের জায়গা দখল করে প্রাচীর নির্মাণের কারণে স্থানীয়দের দুর্ভোগ হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন। বিষয়টির দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন।

 

সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন। এরপর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

 

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহারিয়ার হক বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর