[email protected] শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড: সাত বছরেও রায় কার্যকর হয়নি, পরিবারের ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৭ অক্টোবর ২০২৬ ১২:২২ পিএম

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের সাত

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের সাত বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত আদালতের রায় কার্যকর হয়নি। মামলার দুই ধাপের বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও চূড়ান্ত রায় বাস্তবায়ন কবে হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। দীর্ঘসময়েও বিচার কার্যকর না হওয়ায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আবরারের পরিবার।

​২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর মধ্যরাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার হত্যার দুদিন আগে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের অসম চুক্তি নিয়ে সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। সেই ঘটনার জেরে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় এবং রাত ৩টার দিকে হলের সিঁড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

​ঘটনার পর কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোডে আবরার ফাহাদের নিজ বাসভবনে তার পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। তার সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পুরো পরিবার ঢাকায় অবস্থান করছে। আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ ফোনে ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, "ভারত আমাদের দেশটাকে গ্রাস করতে চেয়েছিল। আবরার সেটার প্রতিবাদ করেছিল। যে কারণে আবরারকে জীবন দিতে হয়েছে, সেটার বাস্তবায়ন চাই আমরা। দেশকে নিয়ে আবরার ফাহাদের যেই স্বপ্ন ছিল, সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ দেখতে চাই।"

​হত্যাকাণ্ডের পর তদন্ত শেষে মাত্র এক মাসের মাথায় ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়। ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ মামলার রায়ে ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে বিচারিক আদালতের এই রায় বহাল রাখেন।

​মামলায় দণ্ডিত ২৫ জন আসামির মধ্যে বর্তমানে চারজন পলাতক রয়েছেন। বিচারিক আদালতের রায়ের সময় থেকেই তিনজন—মোর্শেদ-উজ-জামান, এহতেশামুল রাব্বি ও মুজতবা রাফিদ পলাতক। এছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামি মুনতাসির আল জেমি ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট গাজীপুরের হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যান।

​বর্তমানে মামলাটি আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে উল্লেখ করে আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বলেন, "আবরার ফাহাদ হত্যার সাত বছর হয়ে গেল, অথচ রায় কার্যকর হলো না। পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার এবং বিচার কাজ শেষ করে রায় কার্যকরের দাবি জানাচ্ছি।" তিনি আরও বলেন, দেশের জন্য জীবন দেওয়া আবরার ফাহাদকে যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভুলে না যায়, সেজন্য কুষ্টিয়া শহরের একটি সেতু তার নামে নামকরণের জোর দাবি জানান।

এসআর

সম্পর্কিত খবর