ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে বিদ্যালয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে কুলসুম আক্তার (৯) নামে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।
বিদ্যালয় ও পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানা যায়, সকালে স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয় কুলসুম। বাড়িতে তখনও ভাত রান্না না হওয়ায় তার মা তাকে মুড়ি ও চা খেতে দেন। পরে সকাল ৯টা ২০ মিনিটের দিকে সে বিদ্যালয়ে যায়।
স্কুলে পৌঁছে কিছু সময় সহপাঠীদের সঙ্গে খেলাধুলা করে কুলসুম। পরে বিদ্যালয়ের টিউবওয়েল থেকে পানি পান করে দ্বিতীয় তলায় ওঠার জন্য সিঁড়িতে যায়। এ সময় হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যায় সে। বিষয়টি দেখতে পেয়ে পঞ্চম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে নিচে নিয়ে আসে। এরপর তার মাথায় পানি দেওয়া হয়। তখন শিশুটির শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
ঘটনাটি জানার পর বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরে তার মা ও কয়েকজন শিক্ষক দ্রুত কুলসুমকে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সকাল সোয়া ১০টার দিকে হাসপাতালে পৌঁছালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, শিশুটিকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ইসিজি পরীক্ষাতেও কোনো অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়নি।
কুলসুমের বড় ভাই রিয়াদ মিয়া বলেন, সকালে তার বোন স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যালয়ে গিয়েছিল। সেখানে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।
কুলসুমের সহপাঠী ওবায়দুল জানায়, টিউবওয়েলের পানি পান করার পর দ্বিতীয় তলায় ওঠার সময়ই কুলসুমের মাথা ঘুরে যায়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিক্তা রানী দেব বলেন, কুলসুম বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের একজন ছিল। হঠাৎ তাকে হারিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সবাই শোকাহত। অসুস্থ হওয়ার পর দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসহাক মিয়া জানান, বিদ্যালয়ে অসুস্থ হয়ে এক শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই শিশুটির মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এসআর