নাটোরের লালপুরে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে এক তরুণীকে (২৩) ঘুরতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তিন যুবকের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিন যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলেন—লালপুরের ছয় রাস্তার মোড় মণ্ডলপাড়া গ্রামের মো. আশিক (২২), জোতদৈবকী গ্রামের মো. শাকিল ইসলাম বাঁধন (২০) এবং একই এলাকার মো. কাজল হোসেন (২২)।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোবাইল ফোনে আশিকের সঙ্গে ওই তরুণীর পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। প্রায় এক মাসের পরিচয়ের পর শনিবার বিকেলে আশিকের সঙ্গে তিনি গ্রিন ভ্যালি পার্কে ঘুরতে যান। পরে আশিক তাকে রিকশায় করে লালপুর ডিগ্রি কলেজ মাঠের পূর্ব-দক্ষিণ পাশে একটি ফাঁকা বাড়ির কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই তার দুই বন্ধু শাকিল ও কাজল উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তরুণীর অভিযোগ, ওই কক্ষে আশিক তাকে ধর্ষণ করেন। পরে তার দুই বন্ধুও একইভাবে তাকে নির্যাতন করেন। এ সময় অভিযুক্তদের একজন মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার পর সন্ধ্যার দিকে তরুণীকে অটোরিকশায় করে একাই বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরদিন রোববার দুপুরে ধারণ করা ভিডিওটি তার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয়। এরপর ভিডিওটি প্রকাশ না করার বিনিময়ে ১৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
বিষয়টি পরে এক প্রতিবেশী নারীকে জানান ওই তরুণী। তার কাছ থেকে ঘটনা জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা লালপুর থানায় অভিযোগ করেন। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিন যুবককে আটক করে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, প্রেমের সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে ওই তরুণীকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে। পরে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়। তারা অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তরুণীর অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানান তিনি।
ওসি আরও বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী ও তার এক স্বজনকে থানায় নিরাপদে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসআর