ভোলায় অসহায়, দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে বিনামূল্যে চিকিৎসা পৌঁছে দিতে বিশেষ ফ্রি
মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং ভোলা সদর আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। এমপি’র নিজস্ব অর্থায়নে আয়োজিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রায় ১০ হাজার মানুষ সেবা গ্রহণ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতি রয়েছে। ফলে এলাকার সাধারণ ও হতদরিদ্র মানুষ সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন না। এই স্বাস্থ্যসংকট বিবেচনায় নিয়ে সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় এই স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
পুরো কার্যক্রমটি চারটি ধাপে ভাগ করে পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে তিন ধাপের সেবা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রথম ধাপে রাজাপুর, পূর্ব ইলিশা ও পশ্চিম ইলিশা এবং দ্বিতীয় ধাপে বাপ্তা, কাচিয়া ও ধনিয়া ইউনিয়নে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তৃতীয় ধাপে আলীনগর, দক্ষিণ দিঘলদী ও উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নে দিনব্যাপী এই ক্যাম্প পরিচালিত হয়।
কর্মসূচির শেষ অর্থাৎ চতুর্থ ধাপে আগামী শনিবার ভেদুরিয়া, ভেলুমিয়া এবং চরসামাইয়া ইউনিয়নে এই মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে। দিনব্যাপী চলা এই ক্যাম্পগুলোতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা স্বাস্থ্যপরীক্ষা ও চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীদের মাঝে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধও দিচ্ছেন।
ক্যাম্পে সেবা নিতে আসা বয়োবৃদ্ধ আব্দুল মতিন ও লোকমান হোসেন জানান, বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগলেও অর্থাভাবে শহরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া বা ওষুধ কেনা সম্ভব হচ্ছিল না। বাড়ির কাছেই সরকারের তথ্যমন্ত্রীর এ উদ্যোগে বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও ওষুধ পেয়ে তারা বেশ উপকৃত হয়েছেন।
ভোলা জেলা বিজেপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম রতন জানান, সংসদ সদস্য ও তথ্যমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থর পরিচালনায় পর্যায়ক্রমে সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নেই সেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। প্রথম দফায় প্রায় ২০ হাজার মানুষকে সেবা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ১৩টি ইউনিয়নের কাজ শেষ হলে আবারও একইভাবে দ্বিতীয় দফায় সেবা দেওয়া হবে, অর্থাৎ এ স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু থাকবে।
তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, প্রত্যন্ত এলাকার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে সরাসরি চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ স্থানীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে।
এসআর