[email protected] শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১০ আশ্বিন ১৪৩৩

দেড় লাখ দেশলাই কাঠিতে তৈরি হচ্ছে ব্যতিক্রমী দুর্গাপ্রতিমা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮:০০ এএম

সংগৃহীত ছবি

ঝলমলে কাপড় আর সূক্ষ্ম অলংকারে সাজানো দেবী দুর্গার প্রতিমা দূর থেকে দেখে বোঝা দায়।

 তবে কাছে যেতেই চোখে পড়ে শাড়ির কুঁচি থেকে শুরু করে অলংকার—সবটাই তৈরি দেশলাই কাঠি আর রেশমি সুতা দিয়ে। সাতক্ষীরার ব্রহ্মরাজপুরে এবার তেমনই এক ব্যতিক্রমী আয়োজনে দুর্গাপ্রতিমা তৈরির কাজ চলছে।

​সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের ব্রহ্মরাজপুর সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা মন্দিরে চলছে এই বিশেষ প্রতিমা তৈরির কাজ। ব্যতিক্রমী এই দুর্গাপ্রতিমা দেখতে প্রতিদিনই মন্দিরে ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয় দর্শনার্থীরা।

​প্রতিমাটির মূল কারুকাজে দেখা যায়, মাটির তৈরি অবয়বের ওপর নিখুঁতভাবে দেশলাই কাঠি বসিয়েছেন শিল্পীরা। কোথাও কাঠি সোজা সারিতে সাজানো, আবার কোথাও রয়েছে ঢেউখেলানো নকশা। কাঠির ফাঁকে ফাঁকে জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে রেশমি সুতা, যা দিয়ে দেবীর পোশাক ও অলংকার ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

​প্রতিমাশিল্পী নবদ্বীপ সরকার জানান, তিন বছর আগে ভারতে একটি মন্দিরে গিয়ে এমন কাজ দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার সাতক্ষীরায় দেশলাই কাঠি ও রেশমি সুতা দিয়ে প্রতিমা গড়ার উদ্যোগ নেন। তিনি জানান, কাজ নিখুঁত রাখতে দিন-রাত পরিশ্রম করতে হচ্ছে, কারণ একটি কাঠি সামান্য ভুল জায়গায় বসলে পুরো নকশার সৌন্দর্য নষ্ট হতে পারে।

​আয়োজকদের সূত্রে জানা গেছে, এই প্রতিমার পোশাক ও অলংকার তৈরিতে দেড় লাখের বেশি দেশলাই কাঠি এবং ১০ কেজির বেশি রেশমি সুতা ব্যবহৃত হচ্ছে। শুধু প্রতিমাশিল্পীদের পারিশ্রমিক বাবদ খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। পূজার অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫ লাখ টাকা।

​ব্রহ্মরাজপুরে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন এটাই প্রথম নয়। গত বছর ১০০ কেজি চিনিগুঁড়া ধান দিয়ে দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করা হয়েছিল, যা দেখতে দূরদূরান্ত থেকে অনেক দর্শনার্থী এসেছিলেন।

​গত বছরের ব্যাপক সাড়ার পর পূজা উদ্‌যাপন কমিটি এবার আরও নতুন কিছু করার পরিকল্পনা নেয়। কমিটির উপদেষ্টা কানাইলাল জানান, ধানের প্রতিমার সাফল্যের পরই এবার আকর্ষণীয় দেশলাই কাঠির প্রতিমা তৈরির চিন্তা করা হয়। গত বছর যেখানে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৩ লাখ টাকা, এবার মোট বাজেট দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ লাখ টাকায়।

​প্রতিমা দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা কল্পনা রানী আশা প্রকাশ করেন, ধানের প্রতিমার মতো এবার দেশলাই কাঠি ও রেশমি সুতার তৈরি এই প্রতিমাও সবাইকে ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট করবে।

​ব্রহ্মরাজপুর শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট গৌতম ঘোষ বলেন, এটি একটি ইউনিক আয়োজন এবং শিল্পী ও কমিটির যৌথ আলোচনায় সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছিল।

​সাতক্ষীরা জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ ঘোষ শিল্পীদের এই নান্দনিক কাজের প্রশংসা করে জানান, দেশলাই কাঠি দিয়ে দেবী দুর্গার পোশাক ও অলংকারে যে রূপ দেওয়া হচ্ছে তা সত্যি প্রশংসনীয় এবং এবারও সাতক্ষীরার বাইরে থেকে প্রচুর দর্শনার্থী আসবে বলে তিনি আশাবাদী।

এসআর

সম্পর্কিত খবর