[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৯ আশ্বিন ১৪৩৩

সেতু নির্মাণে রডের বদলে বাঁশ, শাস্তি পেলেন এলজিইডির তিন কর্মকর্তা–কর্মচারী

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩:৪৮ পিএম

সংগৃহীত ছবি

নোয়াখালী ও টাঙ্গাইলে নির্মাণাধীন সেতুর কাজে অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তিন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলীদের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাগুলো তদন্তে একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক আদেশে এসব প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে একটি নির্মাণাধীন সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিংয়ের কাজে রড ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় এলজিইডি।

বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম এবং কার্যসহকারী মো. মহিন উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আদেশে তাদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে।

এ ঘটনায় নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মন্ডল এবং বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনছুর আহমেদের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সাত কার্যদিবসের মধ্যে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

অভিযোগটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন এলজিইডির নোয়াখালী অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী। তাকেও সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। এ ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের কার্যসহকারী মো. হাসমত আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এলজিইডির আদেশে বলা হয়েছে, নির্ধারিত নির্মাণসামগ্রীর পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনায় আসে। দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে একই ঘটনায় বাসাইলের সংশ্লিষ্ট উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।

একই সঙ্গে জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এদিকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

সরকারি অর্থের অপব্যবহার কিংবা মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

তিনি আরও বলেন, পদ-পদবি বা প্রভাব দেখিয়ে কেউ রেহাই পাবেন না। এরই মধ্যে শোকজ, সাময়িক বরখাস্ত ও বদলির মতো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে চাকরি থেকে অব্যাহতির মতো ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর