[email protected] শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩ আশ্বিন ১৪৩৩

অনিয়ম ও বহুবিবাহের অভিযোগে সাবেক ওসি মাহবুব, নতুন ভিডিও ঘিরে চাঞ্চল্য

আবু কাওছার মাখন, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩:৩০ পিএম

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) চন্দ্রিমা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলমকে ঘিরে পুরোনো অভিযোগের পাশাপাশি নতুন একটি ঘটনা সামনে এসেছে।

আবু কাওসার মাখন

অন্য এক নারীর সঙ্গে একটি ফ্ল্যাটে অবস্থান করার সময় নিজেকে মাহবুব আলমের ‘ষষ্ঠ স্ত্রী’ দাবি করা এক নারীর প্রতিবাদের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফ্ল্যাটটিতে উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে।

ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক নারীর দাবি, মাহবুব আলম ওই ফ্ল্যাটে অন্য এক নারীকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন।

বিষয়টি জানতে পেরে নিজেকে তাঁর ষষ্ঠ স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া ওই নারী ফ্ল্যাটে গিয়ে দরজায় আঘাত করে প্রতিবাদ জানান।

এ সময় বাইরে থেকে তাঁর চিৎকার-চেঁচামেচি এবং ভেতরে থাকা নারীর উপস্থিতিকে ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে দাবি করা হয়েছে।

পরে ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

ভিডিওটির সত্যতা ও ঘটনার বিস্তারিত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এর আগেও মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে, তথ্য গোপন, প্রতারণা ও নির্যাতনের মতো অভিযোগ উঠেছিল। নিজেকে তাঁর চতুর্থ স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া এক নারী রাজশাহীর তৎকালীন রেঞ্জ ডিআইজির কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন বলে জানা যায়।

ওই অভিযোগে বলা হয়েছিল, আগের একাধিক বিয়ের তথ্য গোপন করে ওই নারীকে বিয়ে করেন মাহবুব আলম। অভিযোগে আরও জোরপূর্বক গর্ভপাত, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং ওই নারীর কাছ থেকে বিপুল অর্থ নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা আদালতের কোনো রায় প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে চন্দ্রিমা থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগও সামনে আসে।

তাঁর কার্যালয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে একটি খাম নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই ভিডিও ঘিরে তখন ব্যাপক আলোচনা হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে চন্দ্রিমা থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

সাম্প্রতিক ভিডিওসহ মাহবুব আলমকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

 

এসআর

সম্পর্কিত খবর