রাজধানীর গুলশানে সরকারবিরোধী মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ২৪ নেতাকর্মীর ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন মো. রহিম, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, মো. আলমগীর হোসেন, সাব্বির হোসেন, কামরুল হাসান, মো. মুন্না মিয়া, সামিন ইয়াসার (সাফায়াত), মো. রাসেল, এইচ এম জাকারিয়া রহমান, মিনহাজুল ইসলাম ফাহাদ, সোহেল আহমেদ, মো. সোহরাব, মো. হযরত আলী, মো. আক্তারুল ইসলাম মাসুদ, চাঁন মিয়া, মো. হাবিব সিকদার, মো. জহির হোসেন, মেহেদী হাসান, কবির ভান্ডারী, বাবুল গোপ, মো. ফরিদ আহমেদ, ইন্দ্রনীল দেব শর্মা, মো. নজরুল ইসলাম ও মাসুদ হাসান শামীম।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপপরিদর্শক রুহুল আমিন আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত, এর নেপথ্যের কারণ ও মূল পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করা প্রয়োজন।
পাশাপাশি ঘটনায় অর্থের জোগানদাতা ও ষড়যন্ত্রে জড়িতদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ, অন্য আসামিদের অবস্থান শনাক্ত এবং পলাতকদের গ্রেফতারে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি।
রিমান্ড আবেদনের বিরোধিতা করে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত ২৪ আসামির ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তবে আরাফাত নামে এক আসামিকে শিশু দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল ও অধিকতর শুনানির জন্য আগামী রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিন ধার্য করেছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে গুলশান থানার আওতাধীন এলাকায় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হন।
অভিযোগ করা হয়েছে, সরকারবিরোধী কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা সমাবেশ করে স্লোগান দেন এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেন।
এ সময় ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ ওঠে। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে পুলিশের দিকেও ককটেল নিক্ষেপ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। পরে মিছিলকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে বিভিন্ন দিকে চলে যান। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ককটেল উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় গুলশান থানার উপপরিদর্শক মো. মাহবুব হোসাইন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করেন। মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এসআর