সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামে কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা ও জলবায়ু ন্যায্যতা বিষয়ে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার ও বুধবার (১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠিত হয় বুধবার।
সরমা রানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণে রমজাননগর, কৈখালী, নূরনগর, ভূরুলিয়া, কাশিমাড়ি ও আটুলিয়া ইউনিয়নের কৃষিপ্রতিবেশ চর্চাকারী, আগ্রহী কৃষক এবং যুব উদ্যোক্তারা অংশ নেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বারসিকের সহযোগী আঞ্চলিক সমন্বয়কারী রামকৃষ্ণ জোয়ারদার, শতবাড়ির সদস্য সাবিনা আক্তার ও সাগরিকা রানী, প্রস্তাবিত এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারের অর্চনা রানী, সবুজ সংহতির সদস্য শাহীন ইসলামসহ অনেকে।
প্রশিক্ষণে কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যার মৌলিক ধারণা, বিভিন্ন ধরনের বীজের বৈচিত্র্য, অচাষকৃত উদ্ভিদের গুরুত্ব ও গুণাগুণ নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি পুষ্টির চাহিদা পূরণে এসব সম্পদের ব্যবহার, জৈববালাইনাশক প্রয়োগ, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণ, গর্ত কম্পোস্ট ও ভার্মি কম্পোস্ট তৈরির পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
এ ছাড়া মাটি ও জীবনের পারস্পরিক সম্পর্ক, মিশ্র ও সমন্বিত চাষাবাদ এবং জলাবদ্ধতা ও অতিবৃষ্টির সময় মাচা পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরির কৌশল সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষক হিসেবে এসব বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা দেন এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারের প্রতিনিধি সরমা রানী ও শতবাড়ির সদস্য সুবোল সরদার।
প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীরা মথুরাপুর কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা শিখন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে তারা হাতে-কলমে কৃষিপ্রতিবেশ চর্চা, জলবায়ু সংকটের প্রভাব এবং তা মোকাবিলায় নেওয়া বিভিন্ন অভিযোজন কৌশল সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
কর্মশালায় অংশ নেওয়া চপলা রানী, অর্চনা রানীসহ অন্যরা বলেন, বাড়িতে বীজ সংরক্ষণ ও জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ বাড়ানো গেলে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি পরিবারের আয়ও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বসতভিটার পশু-পাখি, অণুজীব, ফসল, পুকুর, মাছ, সাপ, পোকা, প্রজাপতি ও ব্যাঙসহ বিভিন্ন জীব ও উপাদানের পারস্পরিক সম্পর্ক সংরক্ষণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।
এসআর