ঢাকার কেরানীগঞ্জের আরশিনগরে একটি সেলুনে ঢুকে গুলি ছোড়ার পর ফরহাদ হোসেন (৩০) নামের এক যুবককে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে একদল দুর্বৃত্ত।
নিহত ফরহাদ আরশিনগরের মেম্বার গলিতে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। তার গ্রামের বাড়ি ভোলার দৌলতখান উপজেলার নুরাবাদ গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় রাজ সেলুনে বসে চুল কাটাচ্ছিলেন ফরহাদ। এ সময় কয়েকজন যুবক সেখানে প্রবেশ করে পিস্তল দিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। আতঙ্কে সেলুনে থাকা অন্যরা বাইরে বেরিয়ে গেলে হামলাকারীরা ফরহাদকে লক্ষ্য করে চাপাতি দিয়ে হামলা চালায়।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ফরহাদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান।
সেলুনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বিকেল ৩টা ৭ মিনিটের দিকে তিনজন ব্যক্তি সেলুনে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে দুজনের মাথায় ক্যাপ ছিল। প্রবেশের আগেই একজন পকেট থেকে পিস্তল বের করে ভেতরে গুলি ছোড়েন। গুলির শব্দে সেলুনে থাকা লোকজন দ্রুত বের হয়ে যান।
এরপর অপর দুজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে সেলুনের ভেতরে ঢোকে। তখন লুঙ্গি পরা ও খালি গায়ে ফরহাদ বাইরে বেরিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু একজন পেছন থেকে তার লুঙ্গি ধরে ফেললে তিনি আর পালাতে পারেননি। পরে অন্য একজন তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে থাকে। গুরুতর আহত অবস্থায় ফরহাদকে ফেলে রেখে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ফরহাদের বন্ধু আরিফ ও চাচাতো ভাই আখতার হোসেনের দাবি, মোহাম্মদপুরের মহিরগোলা এলাকায় ফুটপাতে মাছ বিক্রি করতেন ফরহাদ। সেখানে আরমান, সোহেল, কাল্লু, সাব্বিরসহ কিশোর গ্যাংয়ের সাত-আটজন সদস্য তার কাছে চাঁদা দাবি করেছিল। ব্যবসা চালিয়ে যেতে এককালীন ৫০ হাজার টাকা এবং প্রতিদিনও টাকা দিতে বলা হয়। ফরহাদ এতে রাজি না হওয়ায় তাদের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়।
তবে মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশের ভাষ্য, ফরহাদ নিজেও কিশোর গ্যাং ‘পাটালি গ্রুপের’ সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বোটঘাট ও ময়ূরভিলা এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুস জানান, প্রাথমিক তদন্তে হামলায় জড়িত দুই পক্ষেরই মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার এলাকার সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। পূর্ববিরোধের জের ধরে তারা আরশিনগরে এসে হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ চলছে।
এসআর