[email protected] শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

মায়ের কবরের পাশেই শেষ ঠিকানা সেনাসদস্য তাসনিম রিফাতের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪:২৩ পিএম

সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ট্যাংক ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য তাসনিম রিফাতকে মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বাদ জোহর রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সামরিক মর্যাদায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।


সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ হেলিকপ্টারে তাসনিম রিফাতের মরদেহ চট্টগ্রাম থেকে রাজশাহী সেনানিবাসে নেওয়া হয়। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ পৌঁছে দেওয়া হয় তার নিজ গ্রাম বিন্দারামপুরের বাড়িতে।


মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়। শেষবারের মতো তাকে দেখতে বাড়িতে জড়ো হন এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ। স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে সেখানে হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।


পরে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের অংশগ্রহণে জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজা শেষে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাসনিম রিফাতকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। সামরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে নেওয়া হলে মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।


তাসনিম রিফাত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মড কোরের ১৫ স্বতন্ত্র সাঁজোয়া স্কোয়াড্রনের সদস্য ছিলেন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। অনুশীলনের একপর্যায়ে ট্যাংকের ভেতরে একটি গোলা বিস্ফোরিত হলে তাসনিম রিফাতসহ দুই সেনাসদস্য নিহত হন।


মাত্র ২৮ বছর বয়সে তাসনিমের মৃত্যুতে শোকে ভেঙে পড়েছে তার পরিবার। তিন বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তার মা। এবার একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে গভীর শোকে কাতর বাবা আসাদুল ইসলাম।


তাসনিম রিফাত স্ত্রী ও প্রায় আড়াই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। স্বামী ও বাবাকে হারিয়ে পরিবারটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ ও শোকের মধ্যে রয়েছেন স্বজনরা।


সামরিক মর্যাদায় জানাজা ও দাফনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো তরুণ এই সেনাসদস্যের জীবনের শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা। তার মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।

এসআর

সম্পর্কিত খবর