[email protected] মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩১ ভাদ্র ১৪৩৩

তিন মাসেও সন্ধান মেলেনি অপহৃত শিশুর, আইওর বিরুদ্ধে মায়ের অভিযোগ

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭:৪১ পিএম

সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামে চার বছরের শিশু মো. আবু হুরাইরা জুরাইজকে অপহরণের প্রায় তিন মাস পার হলেও তার সন্ধান মেলেনি।

 সন্তানকে ফিরে পেতে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তার মা সুরাইয়া আক্তার। এ ঘটনায় মামলা হলেও শিশুটিকে উদ্ধারে কার্যকর অগ্রগতি না হওয়ার পাশাপাশি তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসহযোগিতা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন তিনি।

 

সুরাইয়ার অভিযোগ, আদালতের নির্দেশের পরও চান্দগাঁও থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) এসআই মুহাম্মদ ফারুক হোসেন তাকে বলেছেন, ‘তোমার সন্তান উদ্ধারের দায়িত্ব আমার না।’ তবে পুলিশের এই কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

 

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার অক্সিজেন পাঠানপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবু সালেহ জুবাইরের সঙ্গে সুরাইয়া আক্তারের বিয়ে হয়। ওই বছরের ২৩ নভেম্বর তাদের ছেলে জুরাইজের জন্ম। পরবর্তীতে যৌতুককে কেন্দ্র করে দাম্পত্য কলহের জেরে ২০২২ সালের ২৭ জুন তাদের বিচ্ছেদ হয়।

 

বিচ্ছেদের পর ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান সুরাইয়া। চলতি বছর জুরাইজকে সীতাকুণ্ড উপজেলার মুঈনুল ইসলাম নুরানি মাদ্রাসায় প্লে শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। ভর্তির জন্য জন্মনিবন্ধন প্রয়োজন হলে শিশুটির বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন সুরাইয়া। আবু সালেহ জন্মনিবন্ধন করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে শিশুটির চাচা মো. ইদ্রিস জন্মনিবন্ধনের কপি নিতে চান্দগাঁও থানার কামাল বাজার এলাকায় তার বাসায় যেতে বলেন সুরাইয়াকে।

 

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৮ জুন ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে জন্মনিবন্ধনের কপি নিতে ওই বাসার সামনে যান সুরাইয়া। সেখানে ইদ্রিস তার কোল থেকে জুরাইজকে নিয়ে নেন। এরপর সুরাইয়াকে মারধর করে বাড়ির বাইরে রাস্তায় ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন।

 

সুরাইয়ার দাবি, ঘটনার পর মুন্না হাসান নামে এক ব্যক্তি মেসেঞ্জারে তাকে হুমকি দেন। পুলিশের কাছে অভিযোগ বা মামলা করলে প্রাণনাশ করা হবে বলে তাকে ভয় দেখানো হয়। এ কারণে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় মামলা করতে পারেননি তিনি।

 

পরে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গত ২৩ আগস্ট চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫-এর পিটিশন মামলা নম্বর ৫৯/২০২৬-এর আদেশের ভিত্তিতে চান্দগাঁও থানায় মামলা করা হয়। মামলার পর ২৬ আগস্ট কামাল বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. ইদ্রিসের স্ত্রী উর্মি আক্তারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি জুবাইরের চাচি বলে জানা গেছে।

 

শিশুটির খোঁজ না পাওয়ায় সুরাইয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন তার বড় বোন সুফিয়া আক্তার কলি। তিনি বলেন, সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার বোন স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া করতে পারছেন না। বারবার অসুস্থ হয়ে পড়ছেন এবং শনিবার সন্ধ্যায় তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মামলার তদন্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

 

সুরাইয়া আরও অভিযোগ করেন, তদন্ত কর্মকর্তা শুরু থেকেই আসামিদের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন এবং তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছেন। আদালতের নির্দেশ প্রসঙ্গে তাকে অপমানজনক কথা বলা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। থানায় হিজাব ও নেকাব পরা নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার।

 

সুরাইয়া বলেন, ছোটবেলা থেকেই ছেলেকে তিনি নিজের কাছে রেখেছেন। এখন সন্তানটি কোথায়, কেমন আছে—কিছুই জানতে পারছেন না। সন্তানকে দ্রুত খুঁজে বের করে তার কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চান তিনি।

 

অভিযোগের বিষয়ে চান্দগাঁও থানার এসআই মুহাম্মদ ফারুক হোসেন বলেন, বাদীর সঙ্গে তিনি কোনো ধরনের খারাপ আচরণ করেননি। শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য পুলিশ কাজ করছে। মামলার দ্বিতীয় আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

প্রথম আসামি চট্টগ্রামের বাইরে অবস্থান করায় তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। শিশুটিকে উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর