জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও সাম্যবাদী দর্শন নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে শুরু হয়েছে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬’।
সোমবার (৩১ আগস্ট) কটিয়াদী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, নজরুলের সাহিত্য ও দর্শন শুধু একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নয়; অন্যায়, বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত মানুষকে অনুপ্রেরণা দেয়।
বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে তাঁর চিন্তা ও সৃষ্টিকে ছড়িয়ে দেওয়া গেলে একটি মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তালুকদার।
তিনি উপজেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নজরুলের সাহিত্য ও সংগীতচর্চা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পরে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মুহাইমিনুল ইসলাম আরিফ কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও সংগীতসৃষ্টির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
আলোচনায় বক্তারা আরও বলেন, নজরুল ছিলেন অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার এক অসাম্প্রদায়িক কবি।
তাঁর লেখায় সাম্য, মানবতা, স্বাধীনতা ও প্রতিবাদের যে বার্তা রয়েছে, তা বর্তমান সময়েও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে সামাজিক বৈষম্য ও বিভাজনের বিরুদ্ধে সচেতন করতে নজরুলের দর্শন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন খান দিলীপ, সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাহমুদুল হাসান এবং কটিয়াদী নজরুল একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ খোকন।
কটিয়াদী নজরুল একাডেমির সহ-সভাপতি সাজেদুল ইসলাম সেলিম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
এতে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক কর্মী, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা অংশ নেন।
আয়োজকরা জানান, ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬’-এর আওতায় পুরো বছরজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
এর মধ্যে স্কুল-কলেজ পর্যায়ে নজরুলসংগীত ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, সেমিনার, বইমেলাসহ নানা সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক আয়োজন থাকবে।
এসব কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য ও দর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে আরও সহজভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি তাঁর সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার চেতনা সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে উপজেলা প্রশাসনের।
এসআর