[email protected] বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
১০ ভাদ্র ১৪৩৩

বন্যায় চট্টগ্রামে মৎস্য খাতে ২১০ কোটি টাকার ক্ষতি: দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে মিঠা পানির মাছ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ আগষ্ট ২০২৬ ১০:০১ এএম

সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক বন্যায় মৎস্য খাতে ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। পটিয়া, আনোয়ারা,

 বাঁশখালীসহ বিভিন্ন উপজেলার হাজার হাজার পুকুর, দীঘি ও ঘের পানিতে তলিয়ে বিপুল পরিমাণ মাছ ভেসে গেছে। চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য অফিসের তথ্য মতে, বন্যায় জেলার ২৩ হাজার ৬১০টি পুকুর-দীঘি এবং ৭৮মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২১০ কোটি টাকা।

​বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর নতুন সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে মাছের রোগবালাই। পুকুরের পানি দূষিত হওয়া ও গুণগত মানের পরিবর্তনের কারণে অবশিষ্ট মাছ মরে ভেসে উঠছে। আনোয়ারা উপজেলার মাছ চাষি আব্দুস সবুর জানান, বন্যার পানিতে অধিকাংশ মাছ ভেসে যাওয়ার পর বাকি কার্প জাতীয় মাছ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে, এতে তাঁর প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে। চাষিদের অভিযোগ, এই দুর্যোগ মুহূর্তে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ বা সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না।

​উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় স্থানীয় বাজারে মিঠা পানির মাছের দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রধান মৎস্য আড়ৎ কালাবিবির দিঘির মোড়ে যেখানে দৈনিক ৩০ লাখ টাকার মাছ বিক্রি হতো, তা এখন অর্ধেকে নেমে এসেছে। স্থানীয় খুচরা বাজারে রুই ৩৫০ টাকা, বড় কাতল ৭০০ টাকা, গুলশা ১,১০০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা এবং তেলাপিয়া ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দূরবর্তী এলাকা থেকে মাছ আনার পরিবহন খরচ বাড়ায় শহরের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

​পরিস্থিতি মোকাবেলায় ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের পুনর্বাসন ও সরকারি সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু দ্রুত তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন এবং রেণু-পোনা উৎপাদনের মাধ্যমে ক্ষতি কাটানোর আশ্বাস দিয়েছেন। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম জানান, মৎস্য চাষিদের ঘুরে দাঁড় করাতে কাজ চলছে এবং দ্রুতই এই উৎপাদন সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর