কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ৬ নম্বর ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য সাবেক ভারপ্রাপ্ত
চেয়ারম্যান ও স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. সালাহ উদ্দিন রুহুলের বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন তহবিল আত্মসাৎ এবং টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের অবৈধ জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদানের দুই জোরালো অভিযোগ উঠেছে। জালিয়াতি ও দুর্নীতির এসব পৃথক ঘটনায় বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট দফতরে লিখিত অভিযোগ দাখিল হওয়ার পর পুরো এলাকাজুড়ে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ সচিব মো. নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগসাজশ করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রুহুল মিয়ানমারের তিন রোহিঙ্গা নাগরিককে বেআইনিভাবে জন্ম নিবন্ধন সনদ দিয়েছেন। প্রতি নিবন্ধনে ৩ লাখ টাকা করে মোট ৯ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন করা হয়েছে মর্মে রেজিস্টার জেনারেল (জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন) কার্যালয়ে অভিযোগ পাঠিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা শফিউল আলম। ৭ জুলাই দাখিল করা এ অভিযোগের অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জেলা প্রশাসকের কাছেও পাঠানো হয়। নথিপত্র অনুযায়ী, সাইমুন ইসলাম সাজ্জাদ, মুবিনা খাতুন ও হাফিছা নামের তিনজনের নিবন্ধন আবেদন করা হয় ২০২৫ সালের ৪ জানুয়ারি। একই মায়ের নাম থাকলেও সাইমুন ও মুবিনার বাবার নাম ভিন্ন, তবে সরকারি তথ্যাভাণ্ডারে দুজনেরই জন্মস্থান কক্সবাজার উল্লেখ রয়েছে। ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. নুরুল ইসলাম তাদের নিজের ওয়ার্ডের বাসিন্দা দাবি করলেও এবং চেয়ারম্যান রুহুল জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করলেও সনদের ইস্যুর তারিখ তার দায়িত্বকালকেই নির্দেশ করে।
জন্ম সনদ জালিয়াতির পাশাপাশি সাবেক এ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের লাখ লাখ টাকা আত্মসাতেরও অভিযোগ এনেছেন ভুক্তভোগীরা। গত ৬ আগস্ট স্থানীয় সংসদ সদস্য (কুমিল্লা-৮) আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ), স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং জেলা প্রশাসকের কাছে ছাত্র-জনতার পক্ষে মুহিতুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি লিখিত আবেদন জমা দেন। অভিযোগ পত্রে একাধিক 'ভৌতিক' বা ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে কোনো কাজ না করেই বরাদ্দ তুলে নেওয়ার কথা বলা হয়। যার মধ্যে চাঁদপুরের আজাদ মুন্সীর বাড়ি থেকে ওয়াহেদ মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মেরামতের ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা, ফতেহাবাদ কুড়ালপাড়া রাস্তার সলিংয়ের ২ লাখ টাকা এবং চাঁদপুর এলাকায় দুটি আলাদা খাল খননের ৪ লাখ টাকাসহ মোট সাড়ে ৭ লাখ টাকা পুরোটাই আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া নমসুদ পাড়া, নোয়াবগঞ্জ উঁচু ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা ও আউয়াল মেম্বারের বাড়ির পাশের একাধিক প্রকল্পে নামমাত্র কাজ করে অধিকাংশ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতীয় নিরাপত্তা হুমকিতে ফেলা রোহিঙ্গা জালিয়াতি ও সরকারি বরাদ্দের এসব অর্থ লোপাটের বিষয়ে দ্রুত সরেজমিন নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে দোষীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ফতেহাবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দারা।
এসআর