কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ‘কটিয়াদী শাহীন বৃত্তি ও ক্যাডেট একাডেমি’কে ঘিরে অভিভাবকদের মধ্যে নানা অভিযোগ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিয়মিত ফি ছাড়াও বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়। এর মধ্যে ‘স্কুল পার্টি’র নামে একাধিকবার টাকা আদায়, বই-খাতা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে কিনতে বাধ্য করা এবং বিভিন্ন ফান্ডের কথা বলে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে।
অভিভাবকদের একটি অংশের দাবি, এসব বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তবে অভিযোগ ওঠার পরও প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার (১৯ আগস্ট) এক অভিভাবক কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মোট ১৭টি অনিয়মের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউএনও কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, লিখিত অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।
অভিভাবকদের কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ ও নিয়মকানুন নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
তবে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মীর মুর্শেদ এসব অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছেন। তার দাবি, প্রতিষ্ঠানটির সাফল্য ও শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়তে থাকায় একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
মীর মুর্শেদ বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি চক্র শুরু থেকেই বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা চালিয়ে আসছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মনগড়া তথ্য ছড়িয়ে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে নতুন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে কেন্দ্র করেও এ ধরনের প্রচারণা হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
প্রধান শিক্ষিকা ইমরানা আহমেদও অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো অভিযোগের বিচার হওয়া উচিত নয়। কারও কাছে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকলে তা সরাসরি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
ইমরানা আহমেদের ভাষ্য, প্রত্যন্ত ও অবহেলিত এলাকায় মানসম্মত শিক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রচারণার পাশাপাশি তাদের পরিবারকে নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন মন্তব্য করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
এ বিষয়ে কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, ‘আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রশাসনের তদন্তের পরই অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
এসআর