[email protected] শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩

জিপিএ-৫ পাওয়া দরিদ্র তাওহীদের পাশে অ্যাডভোকেট পলাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ আগষ্ট ২০২৬ ১১:৩২ পিএম

সংগৃহীত ফাইল

অভাব-অনটনের মধ্যেও এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করা বরিশালের বানারীপাড়ার মেধাবী শিক্ষার্থী তাওহীদ ইসলামের উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব নিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. রাজু হাওলাদার পলাশ।

বানারীপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের জবেদপুর গ্রামের তাওহীদের পরিবারে দীর্ঘদিনের অভাব। তার বাবা মো. ফারুক হোসাইন দিনমজুর এবং মা রিমা খানম গৃহিণী। সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালাতেই যেখানে পরিবারের হিমশিম খেতে হয়, সেখানে সন্তানের উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহন করা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

তবে আর্থিক সংকট তাওহীদের পড়াশোনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। প্রবল আগ্রহ, অধ্যবসায় ও মেধার জোরে সে এগিয়ে গেছে।

সরকারি বানারীপাড়া মডেল ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন (পাইলট) থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এবার জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সে।

তাওহীদের শিক্ষাজীবনের শুরুটাও ছিল সংগ্রামের। জবেদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করে সে।

পরে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ার আগ্রহ থাকলেও নিজ বিদ্যালয়ে এ বিভাগ না থাকায় তাকে অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করতে হয়।

শেষ পর্যন্ত বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অনুমতি নিয়ে সরকারি বানারীপাড়া মডেল ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন (পাইলট)-এর নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয় তাওহীদ।

নতুন প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত পরিশ্রম চালিয়ে যায় সে। নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষাতেও ভালো ফলাফল করে। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এসএসসি পরীক্ষায়ও কৃতিত্বের সঙ্গে জিপিএ-৫ অর্জন করে।

তবে ফল প্রকাশের পর আনন্দের পাশাপাশি তাওহীদ ও তার পরিবারের মধ্যে তৈরি হয় নতুন দুশ্চিন্তা।

ভালো কলেজে ভর্তি, বই-খাতা, শিক্ষা উপকরণ, যাতায়াত এবং পরবর্তী উচ্চশিক্ষার ব্যয় কীভাবে বহন করা হবে—এ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিল পরিবারটি। তাওহীদের স্বপ্ন ভবিষ্যতে ডাক্তার কিংবা প্রকৌশলী হওয়া।

এ অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাওহীদের সংগ্রাম ও সাফল্যের বিষয়টি জানতে পারেন অ্যাডভোকেট মো. রাজু হাওলাদার পলাশ। বিষয়টি নজরে আসার পর তিনি তাওহীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তার পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।

অ্যাডভোকেট পলাশ তাওহীদের ভালো কলেজে ভর্তি থেকে শুরু করে পরবর্তী পড়াশোনার সার্বিক দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এতে তাওহীদ ও তার পরিবারের দীর্ঘদিনের আর্থিক দুশ্চিন্তা অনেকটাই দূর হয়েছে।

অ্যাডভোকেট রাজু হাওলাদার পলাশ নিজেও একই প্রতিষ্ঠানের ২০০২ সালের এসএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, অর্থের অভাবে নিজের এলাকার কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হোক, এটি মেনে নেওয়া কঠিন।

মেধাবী শিক্ষার্থীরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ এবং ভবিষ্যতের অগ্রগতির শক্তি। তাওহীদকে সহযোগিতা করে সে যদি জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, তাহলে এটি শুধু তার পরিবারের জন্য নয়, সমাজের জন্যও ইতিবাচক অর্জন হবে।

তাওহীদ ও তার পরিবার অ্যাডভোকেট পলাশের এই উদ্যোগে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।

তাদের আশা, সহযোগিতার সুযোগ পেয়ে তাওহীদ ভবিষ্যতে তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে এবং একদিন দেশের মানুষের জন্য কাজ করবে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর