রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোসামাজিক বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ‘মনোসামাজিক পরিচর্যা বিষয়ক প্রশিক্ষণ ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির। প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মুরশিদা ফেরদৌস বিনতে হাবিব, পিএইচডি। এতে আরএমপির বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে অংশ নেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে পুলিশ কমিশনার বলেন, পুলিশের দায়িত্ব শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন সময় পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যায় জড়িয়ে পড়া মানুষের সঙ্গেও পুলিশকে কাজ করতে হয়। তাই সেবাপ্রার্থীদের মানসিক অবস্থা বুঝে দায়িত্বশীল ও সহানুভূতিশীল আচরণ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, থানায় সেবা নিতে আসা অনেক মানুষ পারিবারিক বিরোধ, নির্যাতন, আর্থিক সংকটসহ নানা পরিস্থিতির কারণে মানসিক চাপ বা ট্রমার মধ্যে থাকেন। পুলিশ সদস্যরা তাদের পরিস্থিতি উপলব্ধি করে মানবিক আচরণ করলে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে। পাশাপাশি সামাজিক অস্থিরতা কমাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
পুলিশ সদস্যদের পেশাগত চাপের বিষয়টিও তুলে ধরেন পুলিশ কমিশনার। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ের সদস্যদের দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করতে হয়। কর্মঘণ্টার চাপ ও নানা ধরনের পেশাগত চ্যালেঞ্জ সামলাতে তাদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে মনোসামাজিক সহায়তা ও এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে মানসিক চাপ, হতাশা ও নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলায় আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা (ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স) এবং কাউন্সেলিংয়ের দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের এ বিষয়ে সক্ষমতা বাড়ানো গেলে তারা নিজেদের মানসিক চাপ সামলানোর পাশাপাশি সেবা নিতে আসা মানুষের প্রতিও আরও কার্যকর সহায়তা দিতে পারবেন।
প্রশিক্ষণে পুলিশ সদস্যদের মানসিক সুস্থতা, মনোসামাজিক সহায়তা, সংবেদনশীল আচরণ এবং বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মানুষের সঙ্গে কার্যকরভাবে যোগাযোগের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
এসআর