[email protected] শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

সিলেটে একই বাসা থেকে আ.লীগ নেতা, স্ত্রী ও গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ আগষ্ট ২০২৬ ৪:০৬ পিএম

সংগৃহীত ছবি

সিলেট নগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে আওয়ামী লীগের নেতা ও সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক পরিচালক আব্দুস সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং গৃহকর্মী মালু বেগমের (৭৬) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

তিনজনকেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।


বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে রায়নগরের ১১১ নম্বর বাসা থেকে মরদেহ তিনটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ, ডিবি, সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।


নিহত আব্দুস সাত্তার সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের উপদেষ্টা ছিলেন। পাশাপাশি তিনি সিলেট চেম্বারের সাবেক পরিচালক ও ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রীকে নিয়ে ওই বাসায় বসবাস করছিলেন। তাদের দেখাশোনার জন্য গৃহকর্মী মালু বেগম সেখানে থাকতেন।


সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। ডিবিসহ পুলিশের একাধিক টিমও তদন্তে যুক্ত হয়েছে।


তিনি বলেন, ঘটনার সময় এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় বাসার সিসিটিভি ক্যামেরা চালু ছিল না। তবে আশপাশের এলাকার ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনের তথ্যও বিশ্লেষণ করা হবে।


পুলিশ জানায়, এখন পর্যন্ত হত্যায় ব্যবহৃত কোনো অস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি। বাসার আলমারি ও ওয়ারড্রোব খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। সেখান থেকে কোনো মূল্যবান সামগ্রী বা স্বর্ণালঙ্কার খোয়া গেছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।


দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে তিনজনকেই ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


পুলিশ কমিশনার বলেন, সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে। এর মধ্যে ডাকাতি, পারিবারিক বিরোধ, পূর্বশত্রুতা বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া একটি দলিলও তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে।


স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, ভবনের চারতলার কয়েকজন ভাড়াটিয়া সকালে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনেছিলেন। তাদের বক্তব্যও তদন্তে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।


নিহত দম্পতির ভাগনে মুন্না মিয়া জানান, তার মামা-মামি বাসায় থাকতেন এবং তাদের সঙ্গে গৃহকর্মীও ছিলেন। বুধবার সকাল ৯টার দিকে তাদের সঙ্গে কথা হয়েছিল। এরপর কোনো এক সময় ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগমের চার সন্তান। তাদের মধ্যে দুজন যুক্তরাজ্যের লন্ডনে এবং অপর দুজন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন।


ঘটনাস্থলে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাও উপস্থিত হন। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতির খোঁজ নেন।


পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির রহস্য উদঘাটনে আলামত সংগ্রহ, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তিগত তথ্য যাচাইসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে। হত্যার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর