[email protected] মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

কক্সবাজারে পাসের হার ৫৭.০৯ শতাংশ; জিপিএ-৫-এ বিজ্ঞানের দাপট

কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০ আগষ্ট ২০২৬ ৪:৫২ পিএম

সংগৃহীত ফাইল

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলে কক্সবাজারে সাধারণ শিক্ষায় হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে জেলায় এবার সাধারণ বিভাগে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৭ দশমিক ০৯ শতাংশ। বিশেষ করে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ফলাফল বেশ দুর্বল হলেও জিপিএ-৫ অর্জনে এগিয়ে রয়েছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা।


শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার থেকে এবার সাধারণ বিভাগে এসএসসি পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন করেছিল ১৮ হাজার ২২৩ জন। পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৮ হাজার ১২৮ জন এবং অনুপস্থিত ছিল ৯৫ জন।

অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১০ হাজার ৩৪৯ জন। ফলে অকৃতকার্য হয়েছে ৭ হাজার ৭৭৯ জন।


জিপিএ-৫-এ বিজ্ঞান বিভাগের বড় ব্যবধান
এবার কক্সবাজারে সাধারণ বিভাগে মোট ৮৯৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। উপস্থিত পরীক্ষার্থীদের হিসাবে এ হার ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৯২ শতাংশই বিজ্ঞান বিভাগের।
বিজ্ঞান বিভাগে ৪ হাজার ৯৯৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৩২ জন। অর্থাৎ এ বিভাগে জিপিএ-৫ পাওয়ার হার ১৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ।


অন্যদিকে মানবিক বিভাগের ৮ হাজার ৪৬৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ২২ জন, যা এ বিভাগের মোট পরীক্ষার্থীর ০ দশমিক ২৬ শতাংশ।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৪ হাজার ৬৭১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৫ জন। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পাওয়ার হার ০ দশমিক ৯৬ শতাংশ।


অংশগ্রহণ ও জিপিএ-৫—দুই ক্ষেত্রেই মেয়েরা এগিয়ে
কক্সবাজারে এবার ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সংখ্যা বেশি ছিল। জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রেও এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা।


জেলায় ১০ হাজার ৬৭৪ জন ছাত্রী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫১১ জন। বিপরীতে ৭ হাজার ৪৫৪ জন ছাত্র পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ৩৮৮ জন।


ভোকেশনালে ফলাফলে ব্যাপক বৈচিত্র্য
সাধারণ বিভাগের তুলনায় এসএসসি ভোকেশনাল শাখায় কক্সবাজারে ভিন্ন ধরনের চিত্র পাওয়া গেছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেশ ভালো ফল করলেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পাসের হার নেমে গেছে অনেক নিচে।


ফলাফলের দিক থেকে রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় শীর্ষে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯৫ দশমিক ১২ শতাংশ।
এ ছাড়া রামু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার ৯১ দশমিক ১১ শতাংশ এবং সেখানে ৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। উখিয়ার আবুল কাশেম নুর জাহান চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার ৯১ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং চকরিয়ার কিশলয় আদর্শ শিক্ষা নিকেতনে ৯১ দশমিক ০৫ শতাংশ।


রামু টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটে পাসের হার ৭৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির চারজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।


জিপিএ-৫-এর সংখ্যায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে
জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যার দিক থেকে রামু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও রামু টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবস্থান উল্লেখযোগ্য। দুটি প্রতিষ্ঠান থেকেই ৮ জন করে শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
অন্যদিকে কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২ জন শিক্ষার্থী।


কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার খুবই কম
ভোকেশনাল শাখায় সবচেয়ে কম পাসের হার দেখা গেছে মহেশখালী উপজেলার মহেশখালী আইল্যান্ড উচ্চ বিদ্যালয়ে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার মাত্র ২৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ।


এ ছাড়া মহেশখালী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৩ দশমিক ০৬ শতাংশ, চকরিয়ার ডুলাহাজারা ইসলামীয়া আরাবিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ৫৪ দশমিক ১৬ শতাংশ, রশিদ আহমদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৪ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং ডুলাহাজারা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।


ফলাফলের এই বৈষম্য শিক্ষা ব্যবস্থার মান ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। শিক্ষাবিদদের মতে, সাধারণ বিভাগে বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা, বিশেষ করে গণিতে পিছিয়ে থাকা এবং ভোকেশনাল শিক্ষায় অবকাঠামো ও দক্ষ শিক্ষকসংকট এ ধরনের ফলাফলের অন্যতম কারণ হতে পারে।

পরিস্থিতির উন্নয়নে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মান বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নজরদারি ও কারিগরি শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

এসআর

সম্পর্কিত খবর